ইবিতে ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ০১:৩১ এএম

কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রলীগের দুপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গত ছয় মাস ধরে দুপক্ষের মধ্যে চলা বিরোধের জেরে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সহকারী প্রক্টর আরিফুল ইসলাম ফোটনসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র এবং কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে সংঘর্ষের পর কুষ্টিয়া থেকে আহত অবস্থায় আটক হয়েছেন ইবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তাকে পুলিশ হেফাজতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা দেড়টার দিকে ইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক বহিরাগত কিছু নেতাকর্মী নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের থানা গেট এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে প্রধান ফটকের সামনে আসেন তারা। এ খবর পেয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত পদপ্রত্যাশী ছাত্রলীগকর্মীরা মিছিল নিয়ে সেখানে হাজির হলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় উভয়পক্ষের নেতাকর্মীদের হাতে লাঠি ও হকিস্টিকসহ ধারালো অস্ত্র দেখা যায়। সেখানে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণেরও শব্দ পাওয়া যায়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে সভাপতিসহ তার গ্রুপের নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়।

সংঘর্ষে ইবি শাখা সাধারণ সম্পাদক রাকিব, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আমিন হাসান, সামস হোসেন, ফিন্যান্স বিভাগের রাফিদ, মেহেদী হাসান সুমন, ইতিহাস বিভাগের বিপুল খান, আইন বিভাগের হানিফ, অর্থনীতি বিভাগের আল-আমিন, ব্যবস্থাপনা বিভাগের কল্লোল, আরবি বিভাগের সোহান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আরিফুল ইসলাম ফোটনসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কয়েকজনকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এদিকে সংঘর্ষের আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীকর্মীরা। এ সময় প্রধান ফটক এলাকায় সভাপতি-সম্পাদক গ্রুপের তিন কর্মীকে পদপ্রত্যাশীরা মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ছাত্রলীগকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিনা নাসরিনকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রলীগকর্মী হানিফ হোসেন বাদী হয়ে ইবি থানায় এ ঘটনায় একটি মামলা করেছেন।

সংঘর্ষের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কেন্দ্রের নির্দেশে শাখার কার্যক্রম সচল করার উদ্দেশ্যে এসেছিলাম। এতে সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন কর্মী হামলার শিকার হয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্রকে জানিয়েছি।’

অন্যদিকে পদপ্রত্যাশী গ্রুপের নেতৃত্ব দেওয়া মিজানুর রহমান লালন বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে তারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চেয়েছিল। ছাত্রলীগকর্মীরা তাদের প্রতিহত করেছে। টাকার বিনিময়ে করা এই কমিটি কর্মীরা মানে না।’

সহকারী প্রক্টর আনিছুর রহমান বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনা ঘটতে পারে বলে আগে থেকে আমাদের কাছে তথ্য ছিল। জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে ‘অবাঞ্ছিত’ রয়েছেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ এবং সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব। এর আগে সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে কমিটিতে পদ নিয়ে আসা সংক্রান্ত একটি অডিও ফাঁস হয়। এছাড়া আরও কিছু অভিযোগে পদপ্রত্যাশীরা ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিক্ষোভ করে আসছেন। এর আগেও চারবার পদপ্রত্যাশীদের ধাওয়ায় ক্যাম্পাসছাড়া হন সাধারণ সম্পাদক রাকিব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত