সাক্ষীকে সন্ত্রাসীদের হাতে ছেড়ে পালাল পুলিশ

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ০১:৫৩ এএম

পাবনায় ধর্ষণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে সাক্ষ্য দিতে আসা এক যুবককে আসামির সহযোগী সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। মামলার সাক্ষী আবদুল আলীম (৩৫) নামে ওই যুবককে রড দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে আসামির সহযোগীরা। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর থানার মালিগাছা ইউনিয়নের গাছপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থলের পাশের একটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় আলীমের ওপর হামলার ফুটেজ ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। ফাঁস হওয়া ওই ফুটেজে পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম এবং একজন কনস্টেবলকে ঘটনাস্থলে দেখা গেছে। আলীমের ওপর হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়েছে তার পরিবার। উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা।

আহত আবদুল আলীম জানান, মালিগাছা ইউনিয়নের একটি ধর্ষণ মামলার তদন্তের বিষয়ে কথা বলতে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে মোবাইল ফোনে কল করে গাছপাড়া এলাকার একটি দোকানে ডেকে নেন সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম। কিছুক্ষণ কথোপকথনের পরই ওই ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মালিগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম শরিফের ছোট ভাই আরিফুল দলবল নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। পুলিশের সামনেই হামলাকারীরা রড ও হকিস্টিক দিয়ে আলীমকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তারা মোটরসাইকেলে চড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে ঘটনাস্থলের পাশের একটি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে মারপিটের সময় পরিদর্শক খাইরুল ইসলাম ও একজন কনস্টেবলকে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে দেখা যায়।

হামলার পর গুরুতর আহত আলীমকে উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে শুক্রবার রাতেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় গত সোমবার রাতে আলীমকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। আলীম পাবনা পৌরসভার নূরপুর মহল্লার প্রয়াত আয়নুল হকের ছেলে।

আলীম বলেন, ‘হামলার সময় নিরপত্তা বা উদ্ধারে কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই সঙ্গে থাকা সিপাহিকে নিয়ে পালিয়ে যান পুলিশ কর্মকর্তা খাইরুল।’

আহত আলীমের মা আলেয়া খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলেকে পুলিশ ডেকে নিয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয়। সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে জখম করে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করছি।’

আলীমের স্ত্রী রুমা খাতুন বলেন, ‘অপরাধীদের হাত থেকে যদি নিরপত্তাই না দিতে পারে, তবে পুলিশ কেন আলীমকে ডেকে বিপদে ফেলল। পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের নিশ্চয়ই যোগসাজশ ছিল।’

মানবাধিকার কর্মী মুজতবা আব্দুল আহাদ উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, ‘পুলিশের উপস্থিতিতে কোনো ব্যক্তির হামলার শিকার হওয়া অপ্রত্যাশিত। এক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তা হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এমন অদক্ষ কিংবা অসৎ কিছু পুলিশ কর্মকর্তার এমন কাজ পুরো বিভাগকে বিতর্কিত করে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা না নিলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হবে।’

এ ব্যাপারে জানতে পরিদর্শক খাইরুলের কার্যালয়ে গেলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস ওই হামলার ঘটনাকে আকস্মিক ও অনাকাক্সিক্ষত দাবি করে বলেন, ‘তদন্তকারী কর্মকর্তার গাফিলতি আছে কি না বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোয়েন্দা) শামিমা আকতারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

গত সোমবার রাতে আহত আবদুল আলীমের স্ত্রী রুমা খাতুন বাদী হয়ে মামলা করার পর পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলেও জানান গৌতম কুমার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত