মৌসুমের বড় শৈত্যপ্রবাহে স্থবির দেশের অর্ধেক অঞ্চল

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ০২:২৪ এএম

মৌসুমের সবচেয়ে বড় শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে দেশের প্রায় অর্ধেক অঞ্চলের মানুষ। গতকাল দেশের দক্ষিণাঞ্চল ছাড়া অন্য অঞ্চলগুলোর প্রায় ৩০টি জেলার ওপর দিয়ে গতকাল মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বইছিল। এর আগে গত বুধবার তা বিস্তৃত ছিল প্রায় ৩৫ জেলায়। শৈত্যপ্রবাহে ওই সব এলাকার জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকায় শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা বেশি পুরো রংপুর বিভাগে। গতকাল দেশের

সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে কুড়িগ্রামে। রাজধানীতেও কিছুটা বেড়েছে শীতের মাত্রা। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। সারা দেশেই আজ রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস গত রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চলমান শৈত্যপ্রবাহ আরও দু-তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এর মাঝে আজ রাতে (শুক্রবার দিবাগত রাত) আরও কিছু এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে। পরের দিন থেকে কমতে থাকবে। ২৮ তারিখ থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।’

চলতি মাসের তৃতীয় এবং এ মৌসুমের ষষ্ঠ এই শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে গত মঙ্গলবার। ওই দিন প্রায় ২৫টি জেলায় শুরু হওয়া মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ পরের দিন বুধবার ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করে। দেশের প্রায় ৩৫টি জেলায় তা ছড়িয়ে পড়ে; যা এবারের শীত মৌসুমের সর্বোচ্চ। পরের দিন বৃহস্পতিবার শৈত্যপ্রবাহের ব্যাপ্তি কমে ২২ জেলায় নামলেও গতকাল শুক্রবার তা আবার বেড়ে গিয়ে বিস্তৃত হয় ৩০ জেলায়। এর আগে গত ডিসেম্বরের শেষে মৌসুমের তৃতীয় শৈত্যপ্রবাহ বিস্তৃতি লাভ করেছিল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২৬ জেলায়।

অধিদপ্তরের গতকালের মানচিত্র অনুযায়ী, পুরো রংপুর বিভাগের ৮ জেলা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৪ জেলাসহ রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলার আংশিক বা পুরো অংশজুড়ে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বইছিল। শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ছিল রংপুরের কুড়িগ্রামে। গতকাল জেলার রাজারহাটে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন দেশের অধিকাংশ জায়গাতেই দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে টেকনাফে ২৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গতকাল রাজধানীতেও শীতের মাত্রা কিছুটা বেড়েছে। রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আগের দিনের ১৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি থেকে কমে গতকাল রেকর্ড হয়েছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে রাজধানীতে এদিন দিনের তাপমাত্রা বেড়েছে ১ ডিগ্রিরও বেশি। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস জানান, রাজধানীতে রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আজকের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত