স্লুইস গেটটি ৬ গ্রামের মানুষের গলার কাঁটা

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ১১:৩২ পিএম

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বগাচতর গ্রামের বেড়িবাঁধে নির্মাণাধীন স্লুইসগেটটি  এখন ছয় গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষের গলার কাঁটা। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে কাজ শুরু করে জুনে শেষ করার কথা থাকলেও অর্ধেক কাজ করার পর কাজ বন্ধ রাখেন ঠিকাদার। ফলে বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি জমার পাশাপাশি সমুদ্রের লোনা পানি এসে ডুবে যায় আশপাশের পুরো এলাকা।

লোনা পানিতে জমি ডুবে যাওয়ার কারণে এসব জমিতে সবজির আবাদ হচ্ছে না, হচ্ছে না ধান চাষও। ফসল ফলাতে না পেরে কৃষিনির্ভর এই এলাকার মানুষ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অসমাপ্ত স্লুইসগেটের কারণে গেল দুবছর বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ও জোয়ারের পানিতে দক্ষিণ বগাচতর, উত্তর বগাচতর, মধ্য বগাচতর, মহানগর, বালিয়াদি, জগদিশপুর গ্রাম ডুবে যায়। লোনা পানিতে নষ্ট হয়েছে জমির উর্বরাশক্তি। পানিতে ভেসে গেছে অনেক পুকুরের মাছ। বর্ষা মৌসুমে বেশি সমস্যা হয় মানুষের যাতায়াতে। অনেকের ঘর ও উঠান প্রতিদিন জোয়ারের সময় ডুবে যায়।

স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ মামুন, আফসারসহ কয়েকজন জানান দুবছর তারা কোনো জমিতে চাষাবাদ, গরু-ছাগল পালন ও পুকুরে মাছ চাষ করতে পারছেন না। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন অনেকে। তা ছাড়া নিম্নচাপের সময় ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে হয়। বেশি উদ্বিগ্ন থাকতে হয় শিশুদের নিয়ে।

সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম নিজামী বলেন অসমাপ্ত স্লুইসগেটের কারণে কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বার বার জানালেও পানি উন্নয়ন বোর্ড এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

যথা সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার বিষয়ে ঠিকাদার মো. আলমগীর বলেন, ‘প্রয়োজনীয় কাজের তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিল। বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে বলে আমাদের জানানো হয়েছে। এখন নতুন নকশায় কাজ শুরু করা হবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড সীতাকুন্ড কার্যালয়ের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান বলেন, এই প্রজেক্টের প্রাক্কলিত ব্যয় থেকে মূল ব্যয় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা দেখে ঠিকাদার মাঝে কাজ বন্ধ রাখে। বরাদ্দ বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত