ফরিদপুরের মধুখালীতে অবস্থিত ফরিদপুর চিনিকল কর্র্তৃপক্ষ কর্র্তৃক সরবরাহ করা ইউরিয়া সার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আখ চাষিরা। এই সার জমিতে প্রয়োগ করার পর তাতে কাজ হচ্ছে না। উল্টো তাদের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ মৌসুমের শেষে এই নষ্ট সারের টাকাই তাদের সুদে আসলে পরিশোধ করতে হবে। ফলে এসব আখচাষি এবার ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন। পাশাপাশি এই নষ্ট সারের কারণে ফরিদপুর চিনিকলে এবার আখ সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটবে বলে তারা জানান।
ফরিদপুর চিনিকল সূত্র জানায়, এই চিনিকলে তালিকাভুক্ত আখচাষি রয়েছেন প্রায় ৫ হাজার। চলতি মৌসুমে দশ হাজার একর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এসব আখচাষিদের মধ্যে সাড়ে চার শ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বিতরণ করা হয়। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এই সার কৃষকরা হাতে পান।
আখচাষিদের অভিযোগ, সরবরাহকৃত ইউরিয়া সারের এক-চতুর্থাংশই জমাটবদ্ধ ও কালচে। বেশির ভাগই পাথর বা ইটের আকৃতির। অনেক বস্তায় ময়লাযুক্ত ও নষ্ট হয়ে যাওয়া সারও রয়েছে। যা একবারেই ব্যবহারের অনুপযোগী। অনেকেই এই সার ব্যবহার না করে বরং বাইরের দোকান থেকে টাকা দিয়ে সার কিনে জমিতে দিচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, ব্যবহার না করায় এসব সার তাদের ঘরেই পড়ে আছে। চিনিকল কর্র্তৃপক্ষ সেসব ফেরত নিচ্ছেন না।
মধুখালীর মেসেরদিয়া এলাকার আখচাষি মীর আবদুর রহমান বলেন, আখ চাষের জন্য ঋণস্বরূপ এই ইউরিয়া সার আমাদের সরবরাহ করা হয়। বস্তা ভর্তি এই সার বাড়িতে নিয়ে খোলার পর সেখানে বড় বড় পাথরের খণ্ড পাই। কালচে ময়লাযুক্ত এই সার জমিতে একেবারেই ব্যবহারের অনুপযোগী। তিনি অভিযোগ করেন, চিনিকলে ফেরত দিতে গেলে এই সার তারা ফেরত নেয়নি। কুদ্দুস খান, আলেয়া বেগম ও আইয়ুব মোল্যা সহ আরও কয়েকজন আখচাষি বলেন, এই সার জমিতে না দিতে পেরে উল্টো বাজার থেকে গাঁটের টাকায় সার কিনে জমিতে দিয়েছি।
ফরিদপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল বারী বলেন, এবার যে সার আখচাষিদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে তার মধ্যে একটি অংশ পুরোনো ছিল। সেই সারই জমাট বেঁধে গেছে। কিন্তু গুণগত মান নষ্ট হয়নি।
