ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে আজ শুক্রবার যুক্তরাজ্যের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ (ব্রেক্সিট) কার্যকর হচ্ছে। গত বুধবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। পার্লামেন্টের অধিকাংশ সদস্য ব্রেক্সিট শর্তগুলোর প্রতি সমর্থন জানান। সদস্যদের আবেগঘন বিতর্কের পর ভোটাভুটিতে ব্রেক্সিটের পক্ষে ৬২১ ও বিপক্ষে ৪৯ ভোট পড়ে। যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট পার্টির নাইজেল ফারাজসহ বেশিরভাগ এমইপি ইইউবিরোধী বক্তব্য দিলেও কয়েকজন আবারও ব্রিটেনের ইইউতে ফেরার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিবিসি বলছে, নানা ঘটনাপ্রবাহ শেষে গত বছর অক্টোবরে যুক্তরাজ্য ও ইইউ উভয়ে বেক্সিট চুক্তিতে সমর্থন জানায়। শুক্রবার ব্রাসেলসের স্থানীয় সময় রাত ১২টায় ব্রেক্সিট কার্যকরের সঙ্গে সঙ্গে ১১ মাসের অন্তর্বর্তী সময় শুরু হবে। এ সময়ে যুক্তরাজ্যকে ইইউর নিয়ম মেনে চলা ও অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
ব্রেক্সিটে এ অঞ্চলের বেশিরভাগ বিষয় একই রকম থাকলেও কিছু বিষয়ে পরিবর্তন ঘটবে। এর মধ্যে শুরুতেই ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য পদ (এমইপি) হারাবেন নাইজেল ফারাজ, অ্যান উইদেকোম্বেসহ ৭৩ জন। ইইউর সব রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার দায়িত্ব থেকে ব্রিটেনকে সরে যেতে হবে। তবে অন্তর্বর্তী সময়ে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিসে আইনি বিষয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
ব্রিটিশ মন্ত্রীরা দীর্ঘদিন থেকেই ইইউ কাউন্সিলের সম্মেলনে অনিয়মিত। তবে অন্তর্বর্তী সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিতে চাইলে হয়তো একটি সম্মেলন হতে পারে। ব্রেক্সিটের ফলে ব্রিটেনকে বিশ্ববাজারে পণ্য সেবা কেনাবেচার জন্য নতুন নিয়ম তৈরি এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে হবে। সদস্য থাকাকালীন যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার সুযোগ ছিল না। ব্রেক্সিট সমর্থকদের যুক্তি, স্বাধীন বাণিজ্যনীতি ব্রিটেনের অর্থনীতি চাঙ্গা করবে। ব্রেক্সিটে প্রাধান্য পেয়েছিল ব্রিটেন-ইইউ বাণিজ্য চুক্তি। উভয়পক্ষের সম্মতিতে অন্তর্বর্তী সময়ে কোনো বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং পণ্যে বাড়তি শুল্কারোপ হবে না। এর মধ্যে কোনো চুক্তি হলে সেটি অন্তর্বর্তী সময়ের পর কার্যকর হবে।
ব্রিটেনের পাসপোর্ট ছিল নীল ও সোনালি রঙের। ব্রেক্সিট প্রায় ৩০ বছর পর এটি ফিরে আনছে। এ বছরের মাঝামাঝি নাগরিকরা নতুন পাসপোর্ট পাবে। তার আগ পর্যন্ত ইইউর বারগান্ডি নকশার পাসপোর্টে কাজ চালানো যাবে। ব্রেক্সিট উপলক্ষে ৩০ লাখ পঞ্চাশ পয়সার স্মারক মুদ্রা করা হয়। ‘সব জাতির সঙ্গে শান্তি, সমৃদ্ধি ও বন্ধুত্ব’ শীর্ষক এ মুদ্রা শুক্রবার উন্মুক্ত করা হবে। গত বছর ৩১ অক্টোবর এটি ছাড়ার কথা থাকলেও ব্রেক্সিট বিলম্বে এটি স্থগিত হয়।
২০১৬ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে ব্রিটেন-ইইউ ডিপার্টমেন্ট চালু করেন। কিন্তু এগুলোর বিষয়ে উভয়পক্ষ কোনো চুক্তিতে পৌঁছতে পারেনি। ফলে এগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। সন্দেহভাজন অপরাধীরা যদি জার্মানিতে পালিয়ে যান, ব্রিটেন তাদের ফেরত আনতে পারবে না। ইইউর সদস্য ছাড়া জার্মানির সংবিধান তার নাগরিকদের অন্য কারও কাছে হস্তান্তর সমর্থন করে না। যদিও বিষয়টি নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। অনেকে মত দিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সময়ে এ বিধি কার্যকর হবে না।
এর বাইরে ব্রেক্সিট কার্যকর হলেও ভ্রমণ, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পোষ্য প্রাণীদের পাসপোর্ট, ইউরোপিয়ান হেলফ ইন্স্যুরেন্স কার্ড, ইইউর কর্মস্থল ও বসবাস, পেনশন, বাজেটে অবদান এবং বাণিজ্য ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আগের মতোই থাকবে।
