উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধা এবং আত্মাহুতির হুমকি উপেক্ষা করে মেঘনা নদী থেকে দিনরাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী বালুদস্যু সিন্ডিকেট। মোবাইল কোর্টসহ স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানেও বালু তোলা বন্ধ করা যাচ্ছে না। দিনে না হলে রাতে সুবিধামতো সময়ে হেভি ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে একপ্রকার জোরপূর্বক বালু তুলছে প্রভাবশালী চক্রটি।
অব্যাহত বালু উত্তোলনে ১০ গ্রামের মানুষ নদীভাঙনের আতঙ্কে দিনযাপন করছে। এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অনেকের বসতভিটা ও কৃষকের ফসলি জমি। বালুদস্যুদের কবল থেকে ভিটে রক্ষায় প্রতিবাদ করে বালু ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীদের হুমকি-ধমকিতে এলাকা ছাড়তে হয়েছে অনেককে। এ অবস্থায় প্রশাসনের উচ্চপ্রর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন প্রায় ১০ গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। তারা আত্মহুতির আন্দোলনও করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার আওতাধীন সাতমারা চরেরগাঁও, ভাসানিয়া দড়িচর, সেনেরচর ও চালিভাঙ্গা মৌজার অভ্যন্তরে বালু উত্তোলন না করার জন্য হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি প্রভাবশালী বালুদস্যু সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন যাবৎ বালু উত্তোলন করেই যাচ্ছে। ফলে উপজেলার চালিভাঙ্গা, রামপ্রসাদেরচর, মহিশারচর, নলচর, ফরাজিকান্দি, সোনাকান্দাসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের মানুষজন ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছেন। নদীভাঙনের কবলে পড়ে বসতভিটে হারিয়ে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। বালুদস্যুদের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা দফায় দফায় ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের বরাবরে আবেদন-নিবেদন করেও বন্ধ হচ্ছে না বালু তোলা।
এলাকার লোকজন জানান, রামপ্রসাদচর গ্রামের মহসীন নামে এক ব্যক্তি ২০১৭ সালের ৯ এপ্রিল নদীভাঙনের কবল থেকে ওই গ্রামগুলো রক্ষা করতে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করেন। পরে ১১ এপ্রিল এক শুনানিতে হাইকোর্ট বালু উত্তোলন না করার জন্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। কিন্তু ওই বালুদস্যু সিন্ডিকেট হাইকোর্টের নির্দেশের তোয়াক্কা না করে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আবারও হোসাইন মোহাম্মদ মহসীন নামে এক ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। হাইকোর্ট গত ১৭ সেপ্টেম্বর দুটি ইজারা বাতিলসহ আশপাশের এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্তু এ নির্দেশনা পাওয়ার পর বালুদস্যুরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং ভিন্ন কৌশলে রাতের অন্ধকারে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখে। বালু উত্তোলনে ক্ষতিগ্রস্ত ভাসানিয়া দড়িচরের বৃদ্ধ সুফিয়া খাতুন জানান, সারা রাত বালু উত্তোলন করা হয়। কৃষি জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় অনাহারে জীবন পার করছেন জানান তিনি। বালুদস্যু সিন্ডেকেটের জনৈক ওয়াসীম ও আবদুল লতিফ সরকার গংরা বালু উত্তোলন করছে অভিযোগ করেন এই বৃদ্ধা। রিট আবেদনকারী মোহাম্মদ মহসীন বলেছেন, বালুদস্যুরা খুবই ভয়ংকর। তারা হাইকোর্টের আদেশ মানছে না।
মেঘনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুল হাসান জানান, মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাতে অভিযান চালিয়ে জরিমানাও করা হয়েছে অনেককে।
