সাংবাদিকদের সিইসি

না জানিয়ে আ.লীগের মুজিববর্ষের সভা করা উচিত হয়নি

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২০, ০৩:০৭ এএম

ঢাকার দুই সিটিতে ভোটগ্রহণের দুই দিন আগে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) না জানিয়ে আওয়ামী লীগের মুজিববর্ষের সভা করা উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘বিধিতে বলা আছে তারা যেতে পারবে, তাদের নিবন্ধন প্রয়োজন হবে না।’ গতকাল ইসির সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সিইসি।

এদিকে ইসির সঙ্গে বিএনপির প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দুই সিটি নির্বাচনে ‘নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি সৃষ্টি’ করে আওয়ামী লীগ জয় পেতে চায়। তাদের ভোট সুরক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে ইসি।

মুজিববর্ষের সভার বিষয়টি বিএনপি আজকে কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছিল উল্লেখ করে নুরুল হুদা  বলেন, ‘আজকে (গতকাল) সভার বিষয়ে তারা (আওয়ামী লীগ) আগে আমাদের কিছু জানায়নি। পরে উনারাই (বিএনপি) জানালেন সভা হচ্ছে। পরে চেক করে দেখলাম সভা হচ্ছে সেটা নির্বাচন সংক্রান্ত জনসভা নয়, মুজিববর্ষের প্রস্তুতি নিয়ে সভা হচ্ছে। তবে আমি মনে করি, নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সভাটা তাদের না করাই উচিত ছিল। আর করার দরকার হলে আমাদের অনুমতি বা পরামর্শ নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তারা সেটি নেননি, আমরা জানিই না।’

নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, ‘বিধিতে বলা অছে তারা যেতে পারবে, তাদের নিবন্ধন প্রয়োজন হবে না। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা তো বাইরে থেকে আসেনি, তারা এখানকার। বিভিন্ন দূতাবাসে যারা আছেন তারা এখানকার। তারা তালিকা দিলে আমরা পরীক্ষা করে তাদের অনুমতি দিতে পারি। সে অনুমতি আছে, গাজীপুরসহ বিভিন্ন সিটি নির্বাচনেও তারা পর্যবেক্ষণ করেছে। তাদের ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই থাকবে। তারা যেন বিধির বাইরে কোনো রকম আচরণ করতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের সতর্কতা থাকবে।’

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন দূতাবাসের ৭৮ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক কমিশনের অনুমতি নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪৬ জন বিদেশি ও ২৮ জন দূতাবাসগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।

আ.লীগের ভোট সুরক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে ইসি : আওয়ামী লীগের ভোটের দায়িত্ব ইসি নিয়েছে অভিযোগ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে বারবার বলেছি সমাধান হয়নি। শুধু সমাধান হয়নি তা নয়, আরও বেশি লঙ্ঘন হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফুটপাতের ওপর আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের ক্যাম্পের বিষয়ে আমরা বলেছিলাম। তারা বলেছিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভাঙা হবে। এখন পর্যন্ত কোনো অফিস ভেঙেছে বলে আমার জানা নেই। সব অফিসই এখনো আছে, রিটার্নিং অফিসার দুঃখ প্রকাশ করেছেন, তারা এক্সিকিউট করতে পারছেন না। তাদের প্রার্থীর পোস্টারের মাপের ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হয়নি, সেগুলোও নামানোর কথা, কিন্তু তা হয়নি। কোনো পরিবর্তনই হয়নি।’

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের এক সদস্য বলেছেন, কেন্দ্রের ভেতরে-বাইরে, আশপাশে দখলের জন্য। আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি বলেছেন, বিএনপি নাকি বাইরে থেকে লোক এনে কেন্দ্র দখল করবে। দেশের একটি মানুষও কী তা বিশ্বাস করবে, উনি নিজে কী বিশ্বাস করবেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত