জীবনে আমরা অনেকেই অনেকবার জিমে ভর্তি হয়েছি। তার মাঝে খুব কমই পরে সেটা কনটিনিউ করতে পেরেছি। সবাই চাই ফিট থাকতে কিন্তু আলসেমি কিংবা ব্যস্ততার কারণে ব্যায়ামটা ঠিকমতো করা হয়ে উঠে না।
কিন্তু মাচোম্যান না হই, অন্তত ফিজিক্যালি ফিট থাকাটা তো খুবই দরকার!
বলা হয়ে থাকে যে- আপনি যদি সুস্থ থাকার চেষ্টার জন্য সময় বের করতে না পারেন তো অসুস্থতা এসে ঠিকই আপনার কাছ থেকে সেই সময়টা বের করে নেবে।
তো আমাদের এমন একটা ব্যায়াম দরকার যেটা খুব বেশি সময় নেবে না, আলাদা করে কোথাও যাওয়া লাগবে না, ইন্সট্রুমেন্ট লাগবে না আর যেটা খুব সহজেই আমাদের এই ব্যস্ত জীবনের মাঝে খাপ খাইয়ে নেওয়া যাবে।
সেই সহজতম ব্যায়ামটা হলো হাঁটাহাঁটি! একই সঙ্গে এটা অনেকের মতে ব্যায়ামের প্রাচীনতম ধরনও বটে!
এ কথা শুনে আপনারা অনেকেই এখন বিরক্ত হয়ে হয়তো ভাবছেন, এতক্ষণ ভণিতা করে করে ব্যাটা শেষমেশ কিনা এই সামান্য হাঁটাহাঁটির কথা বলল!
আসলে সিস্টেমেটিক হাঁটাহাঁটির রয়েছে অজস্র উপকারিতা যা লিখতে গেলে একটা বিশাল রচনা হয়ে যাবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, এটা আপনার শারীরিক ও মানসিক অবস্থাকে অল্পদিনেই পাল্টে দেবে।
হাঁটলে আপনি মানসিকভাবে অনেক শক্তি পাবেন, আপনার স্ট্রেস লেভেল কমে আসবে, দুশ্চিন্তা কেটে যাবে, ক্রিয়েটিভ চিন্তার ক্ষমতা বাড়বে, টেনশন আপনাকে কাবু করতে পারবে না, ঘুম গভীর হবে।
আর ফিজিক্যাল বেনেফিট হিসেবে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস আপনার কোলেস্টেরল লেভেল আর ব্লাডপ্রেশার কন্ট্রোলে রাখতে, শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট কাটাতে, হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, টাইপ টু ডায়াবেটিস আর কয়েক প্রকারের ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে।
এর সঙ্গে সঙ্গে আপনার ইমিউন সিস্টেম আরো উন্নত আর শক্তিশালী হয়ে উঠবে যেটা বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করতে এবং রোগাক্রান্ত হলে তা থেকে সেরে উঠতে আপনাকে সাহায্য করবে।
বেশি লিখলে অনেকের পড়তে বিরক্তি এসে যাবে তাই হাঁটাহাঁটির বেনেফিটের এই দুটো প্যারা এখানেই শেষ করে দিচ্ছি। কারো আরো জানার আগ্রহ থাকলে প্লিজ গুগল করে দেখে নিন হাঁটাহাঁটির অজস্র উপকারিতার কথা।
খুব সহজেই আপনি হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। সারা দিনে যেসব স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতের জন্য রিকশা ব্যবহার করতেন সেগুলো হাঁটাহাঁটিতে অভ্যাস করে ফেলুন। বাসা থেকে বেরিয়ে কত দূর হেঁটে তারপর গাড়িতে উঠুন কিংবা গন্তব্যের কত দূর আগে নেমে পড়ে হাঁটুন। শুধু একটা ব্যাপার নিশ্চিত করবেন যে হাঁটার জন্য যে পথ বেছে নিচ্ছেন সেটা একেবারেই নিরাপদ। যাদের এভাবে সম্ভব না তারা দিনের একটা অংশ- সকাল, বিকেল বা রাতে হাঁটার জন্য সময় ঠিক করুন।
এবার আসা যাক কতটুকু হাঁটবেন -
যাদের হার্টের সমস্যা কিংবা শারীরিক অন্য কোন সমস্যা আছে তারা কখন হাঁটবেন, কীভাবে হাঁটবেন ও কী পরিমাণ হাঁটবেন সে ব্যাপারে ডাক্তারের সাথে আগে কথা বলে নেবেন।
আর যারা শারীরিকভাবে ফিট তারা প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে সপ্তাহের পাঁচ দিন হাঁটাটাই বিশেষজ্ঞদের মতে যথেষ্ট।
নিজেকে মোটিভেটেড রাখার জন্য ব্যবহার করতে পারেন কোন একটা ফিটনেস ট্রেকার। কিংবা মোবাইলে ইন্সটল করে নিন পেডোমিটার অ্যাপ যেটা প্রতিদিন আপনি কী পরিমাণ হাঁটছেন তার হিসেব রাখবে৷ নিয়মিত এইভাবে ট্রেকিং করলে আপনি মোটিভেটেড থাকবেন আর নিজেকে বারেবারে ছাড়িয়ে যেতে চাইবেন!
তো আসুন, আজ থেকেই শুরু করে দেই পৃথিবীর প্রাচীনতম আর সহজতম ব্যায়াম!