দোহার আশ্রয়ণ প্রকল্প: দেখার কেউ নেই

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৭:১০ পিএম

‘ঘরে থাকা যায় না। একটু বৃষ্টি আইলে ঘরের চাল দিয়া পানি পরে। সবকিছু ভিইজ্যা যায়। পায়খানা (টয়লেট) ভাংগে গেছে তাও ঠিক করে না কেউ। রাইতে আন্দার হয়ে যায়, চুরিও অয় মাঝে মধ্যে। আমরা অনেক সমস্যায় আছি। কয়দিন আগে তো কয়জনে আইছিল। তারাও সব লেইখ্যা নিয়া গেছে। সবাই তো লেইখ্যা নিয়ে যায়, কাজ তো অয় না।’

এভাবেই নিজের আক্ষেপের  কথা বলছিলেন ঢাকার দোহার উপজেলার মাহমুদুপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মমেলা বেগম (৬০)। এটা শুধু মমেলা বেগম নয় আশ্রয়ণ প্রকল্পের সকলের দুঃখ।

সম্প্রতি মাহমুদপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভগ্নদশা। প্রায় এক যুগ আগে নির্মিত জরাজীর্ণ ঘরগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। নির্মাণের পর থেকে আর সংস্কার না হওয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে টিন। বৃষ্টি হলে পানিতে ভেসে যায় ঘর। পরিত্যক্ত ঘরে ছিন্নমূল পরিবারগুলোকে চরম কষ্টে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে বসবাস করতে হচ্ছে। শৌচাগারগুলোর (টয়লেট) বেশির ভাগেরই দরজা ভাঙা। এগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২৪০টি পরিবারের জন্য একটি কবরস্থান আছে। তবে কবরস্থানটিও নানা সমস্যায় জর্জরিত।  কবরস্থানে নেই কোনো অজুখানা, নেই টিউবওয়েলের ব্যবস্থা। কোনো সীমানা প্রাচীর না থাকায় এটি অরক্ষিত। বাসিন্দাদের চিকিৎসার জন্য নেই কোনো হাসপাতাল। ফলে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের খুব সমস্যায় পড়তে হয়। তবে আশ্রয়ণ প্রকল্পটি মাদকমুক্ত বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।   

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আজগর মোল্লা মাঝি (৭০) দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রায় একযুগ ধরে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে আছি। থাকার ঘর, টিউবওয়েল ও টয়লেটগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় কষ্টে আছি।

স্থানীয় বাসিন্দা অটোরিকশা চালক মো. রাজু জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের রাস্তায় লাইট না থাকায় রাতে অন্ধকার হয়ে যায়। ফলে মাঝে মাঝে চুরির ঘটনাও ঘটে। কিছুদিন আগে আমার একটা অটো চুরি হইছে। অথচ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভেতরেই পুলিশ ফাঁড়ি।

মাহমুদপুর আবাসন প্রকল্প মধ্যপাড়া বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি সোলেমান খা বলেন, রাতে পুরো আশ্রয়ণ প্রকল্পটাই অন্ধকার হয়ে যায়। তাই কিছু সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করলে মানুষের সুবিধা হতো।

মাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে ওপর মহলে বেশ কয়েকবার চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। বর্তমানে সরকারের সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে সমস্যাগুলো দেখেছি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিষয়টির সমাধানে চিঠি দেওয়া হবে। আশা করছি এ সমস্যা আর বেশি দিন থাকবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত