গোপালগঞ্জে দুটি বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে খেলার মাঠ আদায় করে নিয়েছে। রাতের অন্ধকরে ওই দুই মাঠে পুকুর খনন করছিলেন প্রভাবশালী মামুন খোন্দকার। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড দেয়।
সোমবার বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনোয়ার হোসেন তাকে এ শাস্তি দেন।
বালুমহাল ও ভূমি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ৪ ধারায় এ সাজা প্রদান করা হয়েছে বলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক জানান।
সোমবার দুপুরে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলার মাঠ দখলমুক্ত করতে বিক্ষোভ করে।
এরপর গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুবাইয়া ইয়াসমীন, গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া গ্রামের চর বয়রা-ঘোনাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও সিবি ঘোনাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ দখল করে ঘোনাপাড়া গ্রামের রেজাউল হক খোন্দকারের ছেলে মামুন খন্দকার ৩০ জানুয়ারি রাতের অন্ধকারে অবৈধ এস্কাবেটর দিয়ে পুকুর খনন শুরু করেন।
খবর পেয়ে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। জায়গা পরিমাপ করে স্কুলের শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ দখল করে অবৈধ এস্কাবেটর দিয়ে পুকুর খনন করার সত্যতা পেয়ে মামুনকে সাজা প্রদান করেন তিনি।
১৯৪২ সালে সিবি ঘোনাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৯৫৬ সালে ঘোনাপাড়া গ্রামের চর বয়রা-ঘোনাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় রাম চন্দ্র গাইন ও খোন্দকারের পরিবার থেকে দুটি স্কুলে ৪ একর ৫ শতাংশ জায়গা দান করেন।
তারপর থেকে স্কুল এ জায়গা ভোগ দখল করে আসছে।
এর আগে একবার মামুন খন্দোকার স্কুল মাঠের কিছু অংশ দখল করে বাঁধ দিয়ে বালু ফেলে। পরে স্থানীয়রা বাধা দিলে কাজ বন্ধ করে দেয়।
৩০ জানুয়ারি রাতের অন্ধকারে মামুন ফের স্কুলমাঠে চারটি এস্কাবেটর নামিয়ে পুকুর খনন ও গাছ কেটে ফেলে। এতে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
