বইছে মৌসুমের সবচেয়ে বিস্তৃত শৈত্যপ্রবাহ

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:১৬ এএম

মৌসুমের শেষে এসে সবচেয়ে বিস্তৃত শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে দেশের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকা। গতকাল দেশের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের কিছু এলাকা ছাড়া বাকি অংশের প্রায় ৪৬টি জেলায় শুরু হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ। মৃদু ও মাঝারিমাত্রার এই শৈত্যপ্রবাহে ওইসব এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজধানীতেও শীতের তীব্রতা বেড়েছে। তাপমাত্রা নেমেছে এ মৌসুমের সর্বনিম্নে। আবহাওয়া

অধিদপ্তর বলছে, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই শৈত্যপ্রবাহ আরও অন্তত একদিন অব্যাহত থাকতে পারে। আজকের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারা দেশেই রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান খান গত রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চলমান শৈত্যপ্রবাহ আরও একদিনের মতো থাকতে পারে। আজ রাতে (সোমবার দিবাগত রাত) দু-একটি নতুন এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে। পরের দিন থেকে তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে।

চলতি মাসের প্রথম দিন থেকে শুরু হওয়া এই শৈত্যপ্রবাহ এ শীত মৌসুমের সপ্তম শৈত্যপ্রবাহ। অল্প কয়েকটি এলাকা দিয়ে শুরু হলেও দ্বিতীয় দিন রবিবার তা বিস্তৃত হয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ১৮টি জেলায়। তবে গতকাল তা আরও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়ে ছড়িয়েছে রংপুর, রাজশাহী, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সব জেলাসহ দেশের প্রায় ৪৬ জেলায়Ñ যা এবারের শীত মৌসুমের সবচেয়ে বিস্তৃত শৈত্যপ্রবাহ। এর আগে গত ২২ জানুয়ারি মৌসুমের ষষ্ঠ শৈত্যপ্রবাহ সর্বোচ্চ ৩৫ জেলায় বিস্তৃতি লাভ করে। চলমান এই শৈত্যপ্রবাহ এবারের শীত মৌসুমের শেষ শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি নাগাদ শীত পুরোপুরি বিদায় নিতে পারে।’

অধিদপ্তরের মানচিত্র অনুযায়ী গতকাল মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বইছিল পুরো রংপুর, রাজশাহী, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪ জেলাসহ বরিশাল বিভাগের সদর, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও ভোলা; খুলনার কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর ও নড়াইল; চট্টগ্রাম বিভাগের সদর, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা এবং ঢাকা বিভাগের গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ ও গাজীপুর জেলায়।

গতকাল প্রায় সারা দেশেই রাতের তাপমাত্রা কমেছে। গত রবিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায় ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল তা আরও কমে ৭ ডিগ্রিতে নামে। তবে আগের দিনের চেয়ে ৪ ডিগ্রি কমে গিয়ে গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া রাজশাহী ও পাবনাতেও গতকাল রাতের তাপমাত্রা ছিল ৭ ডিগ্রির নিচে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও কমেছে। এদিন কক্সবাজার ও টেকনাফে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গতকাল রাজধানীতেও শীতের তীব্রতা বেড়েছে। রাতের তাপমাত্রা কমেছে প্রায় আড়াই ডিগ্রি। আগের দিনের ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি থেকে কমে গতকাল রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এই মৌসুমের সর্বনিম্ন। এর আগে গত ৭ জানুয়ারি রাজধানীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি। তবে গতকাল সামান্য বেড়েছে দিনের তাপমাত্রা। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আজকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যেসব এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ চলছে, তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত