২২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে গোয়েন্দা নিয়োগ দেবে দুদক

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৩:৩৭ এএম

দেশব্যাপী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ২২টি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে একজন করে গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কর্মকর্তারা প্রতিটি জেলায় মাদক কারবার, সন্ত্রাস, খাসজমি দখল ও ঘুষ-দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করে কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন দেবেন। কমিশন প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে ওই অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান

কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টারের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘অর্থ পাচার শুধু বাংলাদেশের একক সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক সমস্যা। আমাদের আশপাশের দেশগুলো থেকেও অর্থ পাচার হয়। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ব্যাপক উন্নয়নও হচ্ছে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে যথাযথভাবে কাজ না করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। এগুলো নিয়ন্ত্রণে সরকার ও দুদক কাজ করছে। কমিশন থেকে বিভিন্ন প্রকল্প পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এভাবে যারা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করছেন, তাদের আইনি প্রক্রিয়ায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

অর্থ পাচারকারীদের দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে গত বুধবার কমিশনের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘যে বা যারা অবৈধভাবে ব্যাংকের বা সরকারি  অর্থ আত্মসাৎ করে, ওই অর্থ পাচার করে বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন, তাদের প্রত্যেককেই অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। ইন্টারপোলসহ আন্তর্জাতিক সব আইনি টুলস-টেকনিক প্রয়োগ করে অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। একই সঙ্গে কমিশন দেশের সম্পদ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমরা কিছু কিছু তথ্য পাচ্ছি। কমিশন থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে কীভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় ওই সব দেশের আদালতের সহায়তায় অপরাধীদের সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করে তা ফিরিয়ে আনা যায়। কমিশনের প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যেই হংকংয়ের আদালতের সহায়তায় কিছু অবৈধ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার সমন্বয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘গবেষণায় দেখা যাচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্যভিত্তিক অর্থ পাচারের মাধ্যমে সর্বাধিক অর্থ পাচার হয়। গত বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে দুদক। আমরা নীতিগতভাবে একমত হয়েছি, পদ্ধতিগত প্রক্রিয়ায় এ-জাতীয় অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘অপরাধী ও তাদের অর্থ ফেরত আনার সক্ষমতা আমাদের আছে। সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমরা সার্বক্ষণিক চেষ্টা করি। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, কাজের প্রতি কমিটমেন্ট বা দৃঢ় অঙ্গীকারই সক্ষমতার উৎস। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সবার দৃঢ় অঙ্গীকার রয়েছে। আমরা একটি টিম। টিমওয়ার্কের মাধ্যমেই আমাদের সক্ষমতা সর্বাধিক বিকশিত করার চেষ্টা করছি।’

দুদক প্রধান কার্যালয়ে ডে-কেয়ার চালু প্রসঙ্গে কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করার মাধ্যমে আমাদের নারী কর্মকর্তারা আরও নিশ্চিন্তমনে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। কমিশনে অনেক নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। আবার অনেক পুরুষ কর্মকর্তা রয়েছেন, যাদের স্ত্রী চাকরি করেন। তাদের সন্তানদের পরিপালনের বিষয়টি একটি উদ্বেগের কারণ। কমিশন তাদের উদ্বেগের বিষয়টি আমলে নিয়েছে। কমিশনের কর্মপরিবেশ আরও উন্নত করার জন্যই এই ডে-কেয়ার সেন্টারটি চালু করা হচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান ও এ এফ এম আমিনুল ইসলাম এবং সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্তসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত