কথায় পরিমিতিবোধ

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:১১ এএম

সৃষ্টিজগতে একমাত্র সবাক প্রাণী মানুষ। মানুষের মুখের ভাষা ও কথা আল্লাহতায়ালার এক বিস্ময়কর নেয়ামত। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাকে ভাষা শিখিয়েছেন।’ (সুরা আর-রাহমান, আয়াত : ৩-৪)

আল্লাহতায়ালা পৃথিবীতে অসংখ্য ভাষা সৃষ্টি করেছেন। মানুষ সেসব ভাষায় একে অন্যের কাছে মনের ভাব প্রকাশ করে থাকে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর তার নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আসমান ও জমিনের সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয়ই এর মধ্যে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।’ (সুরা : রুম, আয়াত : ২২)

সৃষ্টিগতভাবেই মানুষ ভাবপ্রকাশে ভাষার মুখাপেক্ষী। তবে এই কথারও রয়েছে নানা বৈশিষ্ট্য ও নান্দনিকতা। দৈনন্দিন জীবনে অসংখ্য শব্দ উচ্চারণ করে থাকি। মোটা দাগে হিসাব করলে দেখা যাবে সারা দিনে আমরা দুই ধরনের কথা বলে থাকি ভালো ও মন্দ।

যতটা সম্ভব শব্দের ব্যবহার আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যবহার করতে পারা মুমিনের জন্য মঙ্গলজনক। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর তার চেয়ে আর কার কথা উত্তম? যে আল্লাহর দিকে আহ্বান করে এবং বলে নিশ্চয় আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সুরা : ফুসসিলাত, আয়াত : ৩২)

আল্লাহর দিকে আহ্বান ছাড়াও দৈনন্দিন প্রয়োজনে মানুষ নানা কথা বলে থাকে; এতে কোনো দোষ বা মন্দের কিছু নেই। দোষণীয় হচ্ছেÑ আল্লাহর দেওয়া মুখে আল্লাহবিরোধী কোনো শিরকি এবং নাফরমানিমূলক শব্দ উচ্চারণ করা। মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘কত মারাত্মক কথা! (যে কাফেররা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন) যা তাদের মুখ থেকে বের হয়; মিথ্যা ছাড়া তারা কিছুই বলে না।’ (সুরা কাহফ, আয়াত : ০৫)

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে ও প্রাত্যহিক প্রয়োজনে আমরা অসংখ্য কথা বলে থাকি। পক্ষান্তরে কখনো কখনো নীরবতা অবলম্বনও যে এক বড় ইবাদত, তা আমরা জানিই না। অধিক কথা অধিক ভুলের দ্বার খুলে দেয়। ক্ষেত্রবিশেষে অধিক কথার মাঝে দু-একটি আপত্তিকর কথার জন্য পরবর্তী সময়ে বড় বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। মহানবী (সা.) বলেন, ‘আদমসন্তানের বেশি ভুল সংঘটিত হয়ে থাকে তার জিহ্বার মাধ্যমে।’ (শুআবুল ইমান, হাদিস : ৪৯৩৩)

জিহ্বার মাধ্যমে ভুল হওয়ার অর্থ প্রয়োজনের অধিক কথা বলা। যেটি অধিক মিথ্যার দুয়ার খুলে দেয়। আর মিথ্যা ইসলামে কবিরা গুনাহ হিসেবে গণ্য; মিথ্যার শাস্তি জাহান্নাম।

অধিক কথার ক্ষতি বোঝাতে রাসুল (সা.) বলেন, ‘শরীরের প্রতিটি অঙ্গ স্বতন্ত্রভাবে জিহ্বার (অনর্গলতার) বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে থাকে।’ (তারগিব তারহিব, হাদিস : ৪২১৯)

অন্য এক হাদিসে রাসুল কারিম (সা.) বলেন, ‘অনর্থক কথা পরিত্যাগ করা (মুসলিম) ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্যগুলোর থেকে একটি।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩১৭)। অনর্থক কথা পরিত্যাগ করে আমরা তবে কী করতে পারি? এ ব্যাপারে আল্লাহর নবী (সা.) বলেন, ‘(অনর্থক কথা পরিহার করে) যে নীরব রইল, সে মুক্তি পেল।’ (সুনানু দারেমি, হাদিস : ২৭১৩)

মাত্রাতিরিক্ত কথা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। কোরআনের ভাষায় মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো গভীর চিন্তা, ধ্যান ও গবেষণা। কোরআনে কারিমের বহু জায়গায় মুমিনদের ধ্যানমগ্ন থেকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এই ধ্যান হবে নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে; মহান আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে। নিজ ইমান-আমলের কাটাছেঁড়া বিশ্লেষণ ও মানোন্নয়নের জন্য। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা কি কোরআন নিয়ে গবেষণা করে না? আর তা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে অবশ্যই তারা এতে বহু বৈপরীত্য খুঁজে পেত।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৮২)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত