কারাবাসের দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ

খালেদার মুক্তিতে কার্যকর আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপি

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:১৫ এএম

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাসের দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ শনিবার। বিগত দুই বছরে তার মুক্তির দাবিতে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে নানা সমালোচনা। বর্তমানে খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৫ জানুয়ারি এই হাসপাতালে খালেদা

জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তার বোন সেলিমা ইসলাম জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কবে নাগাদ খালেদা জিয়া মুক্তি পেতে পারেন সে বিষয়ে বিএনপি নেতারা স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গত বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালতের ওপর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের কারণে আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া নেত্রীকে মুক্ত করার জন্য যে আন্দোলন গড়ে তোলার দরকার ছিল তা আমরা পারিনি বলে মানুষ মনে করছে। তবে এটা ঠিক নয়। কারণ একটা ফ্যাসিস্ট সরকার যখন ক্ষমতায় থাকে তখন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পক্ষে কার্যকর গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতন-দমন নীতির কারণে সারা দেশে দলের নেতাকর্মীরা নির্যাতিত। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সব পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ মামলা। এর বাইরে দেশে এখন বাক-স্বাধীনতা নেই, কোথাও সভা-সমাবেশ করার মতো স্বাধীনতা নেই। এ অবস্থা মোকাবিলা করে আন্দোলন গড়ে তোলা অসম্ভব। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেন। ওইদিনই তাকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। গত বছরের ১ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে আনা হয়। এখন পর্যন্ত তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দলের নেত্রীকে কারাগারে নেওয়ার পর থেকে বিএনপি কিছুদিন লাগাতার অনশন, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এক পর্যায়ে কর্মসূচিতে ঢুকে সাদা পোশাকের পুলিশ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার শুরু করলে কর্মসূচি পালন থেকে সরে আসে বিএনপি। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে তারা। এভাবে দুই বছর আন্দোলন করলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি বিএনপি। বিষয়টি দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে স্বীকারও করেছেন নেতারা।  

এদিকে গত ২৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিএসএমএমইউতে সাক্ষাৎ করেন তার পরিবারের সদস্যরা। সাক্ষাৎ শেষে খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘কারাবন্দি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। আমরা ভাবছি তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করব।’

খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে কবে নাগাদ সরকারের কাছে আবেদন করা হবেÑএমন এক প্রশ্নের জবাবে সেলিমা ইসলাম বলেন, ‘কবে নাগাদ আবেদন করব, তা এখনো ঠিক করিনি। কারণ, এভাবে বেশি দিন চললে খালেদা জিয়াকে জীবিত অবস্থায় বাসায় নিয়ে যেতে পারব না। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।’

আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা যেহেতু আইনজীবী সেহেতু আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় চেয়ারপারসনের মুক্তির চেষ্টা চালিয়ে যাব। এর বিকল্প কিছু দেখছি না।’ 

মানবিক বিবেচনায় খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য তার জামিন চেয়েছিলেন আইনজীবীরা। এ বিষয়ে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানি হয়। শুনানি শেষে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। জামিন আবেদন খারিজ করা হলেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পর্যবেক্ষণে বলে, যদি আবেদনকারী (খালেদা জিয়া) প্রয়োজনীয় সম্মতি দেন, তাহলে মেডিকেল বোর্ড দ্রুত তার অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্টের (বায়োলজিক এজেন্ট) জন্য পদক্ষেপ নেবে, যা বোর্ড সুপারিশ করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত