কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কোরিয়া চীনের সফলতার গল্প

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:১৬ এএম

কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা করে সফল হয়েছে এশিয়ার দেশ চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া। ভারত সরকারও বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচি নিয়ে কর্মসংস্থান বাড়াতে পেরেছে। বাংলাদেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে বড় ধরনের কোনো কর্মসূচি নেওয়া হয়নি। ১০০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচি নামে নেওয়া উদ্যোগটিও অব্যবস্থাপনার কারণে সফলতা দেখাতে পারেনি।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা ‘ন্যাশনাল জব স্ট্র্যাটেজি ফর বাংলাদেশ’ শিরোনামে করা এক খসড়া কৌশলপত্রে বিভিন্ন দেশ কীভাবে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, তা তুলে ধরেছেন খ্যাতনামা গবেষক ড. রিজয়ানুল ইসলাম ও রুশিদান ইসলাম রহমান।

এতে বলা হয়েছে, ২০০৭ সালে চীন ‘এমপ্লয়মেন্ট প্রমোশন ল’ নামে নতুন আইন পাস করে, যা পরের বছর থেকেই কার্যকর শুরু করে। ওই আইনে বেশ কয়েকটি লক্ষ্য নির্ধারণ করে। এর মধ্যে রয়েছেÑ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শহর এলাকার নিবন্ধিত বেকারের হার নির্ধারণ, পুনরায় চাকরি পেয়েছেন এবং কারখানা বন্ধের কারণে চাকরি হারানোর সংখ্যা নির্ধারণ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর মধ্যে চাকরি পাওয়াদের সংখ্যা নির্ধারণ। সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, শ্রমের জোগান ও আগের বছরগুলোর কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি বিবেচনা করে চীনের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রতি বছর নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তা অর্জনে কাজ করতে থাকে।

চীনের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মূল কৌশল হলো অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এজন্য উদ্যোক্তা উন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয় দেশটি। এসব কর্মসূচিতে তহবিলের জোগান দিতে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার বাজেট থেকে অর্থায়ন করে ‘স্পেশাল এমপ্লয়মেন্ট ফান্ড’ গঠন করে। সক্ষমতা মূল্যায়ন ও কর্মসংস্থান নীতি বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে এগিয়ে যায় চীন।   

অন্যদিকে কর্মক্ষমদের ৭০ শতাংশকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনতে ২০১৩ সালে রোডম্যাপ ঘোষণা করে দক্ষিণ কোরিয়া। এজন্য সরকারের বিভিন্ন নীতি পর্যালোচনা করে কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক নীতি প্রণয়ন করা হয়। বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান বাড়াতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) কর নীতি শিথিল করা, স্বল্প আয়ের কর্মক্ষমদের চাকরি খুঁজতে সহায়তা করতে কল্যাণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়। তরুণ ও বয়স্কদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে বাস্তবায়ন করে দেশটি, দক্ষতা উন্নয়নে নেওয়া হয় নানা পদক্ষেপ।

কর্মসংস্থান নীতি বাস্তবায়নে কোরিয়া দুই স্তরে সমন্বয় করতে থাকে। প্রথম স্তরে কাজ করে দেশটির প্রেসিডেন্টের সভাপতিত্বে গঠিত একটি কমিটি। এই সমন্বয় কমিটির সদস্য করা হয় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক, পরিকল্পনা এজেন্সি, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের। পরের স্তরে দেশটির শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি এই নীতি বাস্তবায়ন তদারকি করে।

পাশের দেশ ভারত ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট (এনআরইজিএ) পাস করে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই আইনের উদ্দেশ্য। এর আওতায় অবকাঠামো নির্মাণ খাতে ১০০ দিনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। এক্ষেত্রে কর্মরতদের মজুরি দেশে প্রচলিত মজুরির চেয়ে বেশি। এ আইনের আওতায় কোনো বেকার কাজের জন্য আবেদন করার ১৫ দিনের মধ্যে কাজ পায়। আর ১৫ দিনের মধ্যে সরকার থেকে কাজ দেওয়া সম্ভব না হলে তাকে ভাতা দেওয়া হয়।

চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত কীভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে তা থেকে বাংলাদেশ শিক্ষা নিতে পারে উল্লেখ করে খসড়া কৌশলপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিকল্পনায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশও ১০০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচি নিয়েছে। তবে সঠিক পর্যালোচনা ছাড়া এটি বলা সম্ভব নয় যে, এই ধরনের কর্মসূচির সফলতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান কতটুকু।

সরকার বিভিন্ন সময় শ্রম, দক্ষতা উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করছে। এর মধ্যে ২০১২ সালে জাতীয় শ্রম নীতি, ২০০৩ ও ২০১৭ সালে জাতীয় যুব নীতি, ২০১২ সালে ন্যাশনাল স্কিলস পলিসি, ২০১৬ সালে ন্যাশনাল ওভারসিস এমপ্লয়মেন্ট পলিসি গ্রহণ করেছে। তবে এসব নীতি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে তা দেখা দরকার বলে খসড়া কৌশলপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত