সদ্য সমাপ্ত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটির তিন প্রার্থীর কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ১৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে প্রথমে সাইদুল ইসলাম বিপ্লবকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকা থেকে পলাশ ইসলামকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, চক্রটি ২০১৭ সাল থেকে মোট ৮১১ জনের পরিচয় ব্যবহার করে পুলিশ কর্মকর্তা ও সচিবসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর স্পুফিং (প্রকৃত নম্বর গোপন রেখে অন্য এক ব্যবহারকারীর নম্বর, অথবা বিশেষ কোনো নম্বর দিয়ে কল করার প্রযুক্তি) করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার গতকাল রবিবার সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের পরাজিত প্রার্থী ইয়াসিন মোল্লার কাছে ৫ লাখ ও জয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল কাশেমের কাছে ৭ লাখ এবং ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের পরাজিত প্রার্থী ডেইজি সারওয়ারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। ওসির মোবাইল নম্বর স্পুফিং করে যোগাযোগ করে পরে নিজেই ম্যাজিস্ট্রেট সেজে ভোটে জেতানোর জন্য পরিপূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে সাইদুল ইসলাম বিপ্লব এ প্রতারণা করে। পলাশ তাকে সহযোগিতা করে।
তিনি আরও জানান, এই চক্রটি ধরতে ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুরে অভিযান চালানো হয়। পরে এই দুজনকে হাজারীবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে বিকাশ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় ২৯টি মোবাইল সিম, চারটি মোবাইল ফোন, ৪০ হাজার টাকা, ১২০০ ডলার ও একটি পাসপোর্ট পাওয়া গেছে। ভোটে জিততে প্রার্থীদের অসদুপায় অবলম্বনের বিষয়টি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপকমিশনার বলেন, ‘বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি জানান, গ্রেপ্তারের পর তারা জানিয়েছে, ওসিদের নম্বর স্পুফিং করে এ প্রতারণা করেছে। তারা একটি ভিওআইপি সার্ভিস থেকে নিবন্ধন নিয়ে অ্যাপসের মাধ্যমে নম্বর স্পুফিং করত।
গত ১৯ জানুয়ারি ডিএনসিসির ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কাশেমকে ও ২২ জানুয়ারি একই ওয়ার্ডের ইয়াছিন মোল্লাকে আদাবর থানার ওসি মোবাইল নম্বর স্পুফিং করে ফোন দিয়ে জিতিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয় প্রতারকরা। বিনিময়ে দুজনের কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবি করে তারা। দুই প্রার্থীই টাকা দিতে রাজি হন। তাদের মধ্যে আবুল কাশেম ৭ লাখ এবং ইয়াছিন মোল্লা ৫ লাখ টাকা বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে পরিশোধ করেন। এরপর ২৪ জানুয়ারি ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ডেইজিকে মোহাম্মদপুর থানার ওসির নম্বর স্পুফিং করে ফোন দেওয়া হয়। তার কাছেও মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে প্রতারকরা। তিনিও একইভাবে ৫ লাখ টাকা দেন। পরে দ্বিতীয় দফায় আবারও টাকা চাইলে ওই তিন প্রার্থী বুঝতে পারেন, তারা প্রতারিত হয়েছেন। এরপর তারা পৃথকভাবে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানান। তিনজনই এ ঘটনায় মামলা করেন।
