করোনাভাইরাস: ৫ বন্দরে প্রত্যাখ্যাত প্রমোদতরীর নোঙরের অনুমতি

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৩:১৪ পিএম

করোনাভাইরাস আতঙ্কে একটি প্রমোদতরী কোনো বন্দরে ভেড়ার অনুমতি পাচ্ছিল না। একে একে পাঁচটি বন্দর প্রমোদতরীটিকে প্রত্যাখ্যান করে। শেষমেশ কম্বোডিয়ার একটি বন্দরে নোঙর করা অনুমতি মেলেছে  জাহাজটির।

বিবিসি জানায়, যাত্রীদের মধ্যে চীনের ভয়াবহ করোনাভাইরাস আক্রান্ত কেউ থাকতে পারে এমন আশঙ্কায় এশিয়ার পাঁচটি বন্দর জাহাজটিকে ভিড়তে দেয়নি।

মার্কিন কোম্পানি হল্যান্ড আমেরিকা লাইনের এমএস ওয়েস্টারডাম নামে প্রমোদতরীটিকে নোঙর করা অনুমতি দিয়েছে কম্বোডিয়া।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে এক হাজার ৪৫৫ যাত্রী নিয়ে হংকং থেকে যাত্রা করেছিল প্রমোদতরীটি। জাহাজটির ভ্রমণ সীমা ছিল ১৪ দিন। এরপর এটির জ্বালানি, খাবার ও অন্যান্য রসদ ফুরিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, গুয়াম, ফিলিপাইন এবং জাপান সেটিকে নোঙর করা অনুমতি দেয়নি।

এদিকে জাপানে নোঙর করা আরেকটি প্রমোদতরীতে ২০০ জনেরও অধিক যাত্রীর দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। কিন্তু এমএস ওয়েস্টারডামে এখন পর্যন্ত কোনো যাত্রী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি বলে নিশ্চিত করা গেছে।

চীনের কভিড-১৯ করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বুধবার পর্যন্ত ১৩৫০ ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল একদিনেই হুবেই প্রদেশে মৃত্যু হয়েছে ২৪২ জনের। যা একদিনে মৃত্যুর আগের রেকর্ডের দ্বিগুণেরও বেশি।

প্রদেশটির রাজধানী শহর উহান থেকে করোনাভাইরাসটির উৎপত্তি। এখন পর্যন্ত অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা প্রদেশটিতেই।

গত বছরের শেষের দিকে উহান থেকে করোনাভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। সংক্রমণ ঠেকাতে উহানসহ প্রদেশটির একাধিক শহরকে গোটা চীন থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। এরপরও ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধ করা যায়নি।

গত শনিবার পর্যন্ত অন্তত ২৫টি দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতদের দুজন ছাড়া সবাই চীনের মূল ভূখণ্ডেই মারা যান। বাকি দুজন মারা যান হংকং এবং ফিলিপাইনে।

এত দিন পর্যন্ত নতুন করোনাভাইরাসটির কোনো নাম ছিল না। তবে গত মঙ্গলবার ডব্লিউএইচও এর নাম দেয় কভিড-১৯।  করোনার কো, ভাইরাসের ভি, ডিজিজের ডি ও উৎপত্তিকাল ২০১৯-এর ১৯ মিলে হয়েছে নতুন এই রোগের নাম।

করোনাভাইরাস শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সংক্রমণ। এই রোগের কোনো প্রতিষেধক এবং ভ্যাকসিন নেই। মৃতদের অধিকাংশই বয়স্ক যাদের আগে থেকেই শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত জটিলতা ছিল।

সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া এই রোগের লক্ষণ হলো- শুকনো কাশির পর জ্বর আসে। সপ্তাহখানেক পর শ্বাস-প্রশ্বাস কমে যায়। এরপর আক্রান্তদের মধ্যে কিছু লোককে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন দেখা দেয়। প্রতি চারজনের একজনের অবস্থা খুবই খারাপ হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত