ব্রিটিশ পার্লামেন্টে রদবদল

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:২৬ পিএম

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিসভায় ব্যাপক পরিবর্তন আনছেন। পরিবর্তনের অংশ হিসেবে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের মন্ত্রী জুলিয়ান স্মিথ ও বাণিজ্যমন্ত্রী আনডেরা লিডসমকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

গৃহায়নমন্ত্রী এস্থার ম্যাকভে ও পরিবেশমন্ত্রী টেরিজা ভিলিয়ার্সকেও সরকার থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী ক্রিস স্কিডমোর ও পরিবহনমন্ত্রী নুস ঘানি ও জর্জ ফ্রিম্যানকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারের সম্ভাবনা থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল জিওফ্রে কক্স নিজেই পদত্যাগ করেছেন।

পদত্যাগের পর এক বিবৃতিতে কক্স বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেও অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কাজ করতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত।’ জুলিয়ান স্মিথও এক টুইটবার্তায় সংকটময় পরিস্থিতিতে জনগণের সেবা করার সুযোগ পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেন।

তবে চ্যান্সেলর সাজিদ জাভিদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল স্ব স্ব অবস্থানে বহাল থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মন্ত্রিসভার অধিকাংশ মন্ত্রীকেই গত জুলাইয়ে বরিস জনসনের আমলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী জনসন হয়তো মন্ত্রিসভায় এবার জুনিয়রদের সুযোগ দেবেন। পাশাপাশি লৈঙ্গিক ভারসাম্য রক্ষায় মন্ত্রিসভায় আরও নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারেন তিনি। অ্যানি ম্যারি, সুয়েল্লা ব্রেভারম্যান ও গিল্লিয়ান কেগানের মতো রাজনীতিকরা শীর্ষপদ পেতে পারেন এমন সম্ভাবনাও রয়েছে।

এছাড়া ক্যাবিনেটমন্ত্রী অলিভার ডৌডেন ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী অলক শর্মার পদোন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বিবিসি। আর বরখাস্ত হওয়া মন্ত্রীদের দলে ব্যারোনেস মর্গানও যুক্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। গত ডিসেম্বরে তাকে সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তখনই অবশ্য তিনি বলেছিলেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি অল্প কিছু মাস কাজ করতে চান।

জুনিয়র মন্ত্রীদের মধ্যে ভিক্টোরিয়া অ্যাটকিন্স, অলিভার ডৌডেন, কাওয়াসি কাওয়ারতেং ও লুসি ফ্রাজারের পদোন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। স্টিফেন বার্কলে ফের মন্ত্রিসভায় ফিরে আসতে পারেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাওয়ার কারণে ব্রেক্সিট মন্ত্রী হিসেবে তার এখন আর কোনো কাজ নেই।

মন্ত্রিসভায় নতুনদের জায়গা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হতে চলতি সপ্তাহেই। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরেই নতুন মন্ত্রীরা যার যার দায়িত্ব বুঝে নেবেন। যুক্তরাজ্যের রাজনীতিবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যে জনসনের ব্রেক্সিট পরিকল্পনার যারা বিরোধিতা করেছিলেন তাদের মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দিতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হওয়ার পর যুক্তরাজ্যকে বেশ কিছু রূঢ় বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে সাংস্কৃতিক, বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক, জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক কূটনীতির ক্ষেত্রে। আর এই বাস্তবতা মোকাবিলায় নতুন আইন প্রণয়নও করতে হতে পারে। জনসনের ব্রেক্সিট পরিকল্পনার বিরোধীরা যাতে এমন আইন পাসের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করতে পারেন, তাই চাইবেন প্রধানমন্ত্রী।

জনসনের সামনে এখন অন্যতম চ্যালেঞ্জ গ্লাসগোতে কপ২৬ জলবায়ু সম্মেলনে উপযুক্ত কোনো প্রতিনিধিকে পাঠানোর বিষয়টি। সাবেক টোরি নেতা ডেভিড ক্যামেরন ও লর্ড হেগ ইতিমধ্যেই এমন দায়িত্ব নেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত