তহবিল গঠনের খবরে পাল্টে গেল পুঁজিবাজারের চিত্র

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:০৫ এএম

পুঁজিবাজারের তারল্য সংকট নিরসনে ব্যাংক ও মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় আকারের তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তহবিলের সুনির্দিষ্ট আকার না থাকলেও প্রতিটি বাণিজ্যিক ব্যাংক ২০০ কোটি টাকা করে ঋণ নিতে পারবে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি তহবিল গঠন সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারেই পাল্টে গেছে পুঁজিবাজারের চিত্র। মাত্র তিন দিনেই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ায় লেনদেনে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। ক্রয়চাপ বাড়ায় আগের দুই সপ্তাহের নেতিবাচক ধারা কাটিয়ে বেশিরভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে, বাড়তি পয়েন্ট যোগ হয়েছে সূচকে।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে গঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের কারণে সাইড লাইনে থাকা বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তারা বিনিয়োগে এগিয়ে আসায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন ৩৪০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৭৩০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। তহবিল ঘোষণার দিন ডিএসইর লেনদেন ছিল ৩৪০ কোটি টাকা। এরপর ধারাবাহিকভাবে লেনদেন বাড়ায় গত বৃহস্পতিবার তা ৭৩০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। এতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর গড় লেনদেন প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়ে ৫১৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

সাইড লাইনে থাকা বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে ক্রয়াদেশ বাড়ায় গত সপ্তাহে ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৬৯ শতাংশ সিকিউরিটিজের দর বেড়েছে। এ সময় ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫৮টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বাড়ে ২৪৬টির, কমেছে ৯৪টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮টির। পাট ও টেলিযোগাযোগ ছাড়া সবগুলো খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে। এ সময় স্টক এক্সচেঞ্জটির বাজার মূলধন বেড়েছে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। গত সপ্তাহে অধিকাংশ শেয়ারের দর বাড়ায় ডিএসইর পিই রেশিও আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়ে ১২ পয়েন্টে উঠেছে।

২০১৮ সাল থেকে টানা দরপতনে ছিল পুঁজিবাজার। এর মধ্যে ২০১৯ সালের জানুয়ারি সাময়িক ঊর্ধ্বগতি হলেও তা স্থিতিশীল হয়নি। ২০১৮ সাল থেকে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচকটি ৩৫ শতাংশের বেশি হারিয়ে ৪০৩৬ পয়েন্টে নেমে আসে। সূচক ফিরে যায় ৫৮ মাস আগের অবস্থানে। এমন পরিস্থিতিতে গত ১৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ দেওয়ার নির্দেশনা দেন। এর মধ্যে সরকারি কোম্পানির পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ছাড়াও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের নির্দেশনাও ছিল। এরপর পুঁজিবাজারে সাময়িক ঊর্ধ্বগতি দেখা দিলেও তার স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। জানুয়ারি মাসের শেষ সময় থেকে ছোট ছোট দরপতনে পুঁজিবাজারে ফের অস্থিরতার সম্ভাবনা দেখা দেয়। তবে গত ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল গঠনের সংবাদের পর থেকেই চাঙ্গাভাবে রয়েছে বাজার।

গত সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসের দরপতনের পর তহবিল গঠনের সংবাদে পরবর্তী তিন কার্যদিবস সূচকের বড় উত্থান দেখা যায়। এতে সপ্তাহ শেষে ডিএসইর প্রধান সূচকটিতে বাড়তি ১১১ পয়েন্ট যোগ হয়। ফলে সূচকটি দাঁড়ায় ৪৫৬৪ পয়েন্টে। সূচক বাড়াতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে এনবিএফআই, ব্যাংক, প্রকৌশল ও সিমেন্ট খাত। গত সপ্তাহে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি বাজার মূলধন বেড়েছে কাগজ ও প্রকাশনা খাতের। এ সময় খাতটির বাজার মূলধন বাড়ে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ। দুই বছর নানা ধরনের বিপর্যয়ে থাকা এনবিএফআই খাতের দর বেড়েছে ১০ শতাংশ। বিশেষ তহবিলের ন্যূনতম ১০ শতাংশ অর্থ মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতায় খাতটিতে চাঙ্গাভাব দেখা গেছে। আইসিবি পরিচালিত বেশ কয়েকটি মিউচুয়াল ফান্ডে সর্বোচ্চ দর বাড়ে। গত সপ্তাহে পুরো মিউচুয়াল ফান্ড খাতের বাজার মূলধন ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া সেবা ও নির্মাণ, বস্ত্র, সিমেন্ট ও প্রকৌশল খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে ৪ থেকে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত