বাগেরহাট-৪ (শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে ওই প্রার্থীরা দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচন কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকতার কাছে তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তবে জামায়াতে ইসলামী তাদের কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি।
মনোনয়নপত্র দাখিলকারীরা হলেন আওয়ামী লীগের আমিরুল আলম মিলন, বিএনপির কাজী খায়রুজ্জামান শিপন এবং জাতীয় পার্টির (এরশাদ) সাজন কুমার মিস্ত্রী। গত চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনটিতে জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। যারাই বিজয়ী হয়েছে তারা অল্প ভোটের ব্যবধানে হয়েছে। জামায়াত এবার ‘নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই’ অজুহাতে প্রার্থী দেয়নি। এদিকে, জাতীয় পার্টির জেলা নেতাদের উপেক্ষা করে কেন্দ্র থেকে বাগেরহাট-৪ আসনে সাজন কুমার মিস্ত্রীকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয় নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের উপেক্ষা করে সাজনকে প্রার্থী দেওয়ায় ওই নির্বাচনী প্রচারণায় তারা থাকবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় জাপা নেতারা।
বাগেরহাট জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক বাবলু হাজরা এই প্রতিবেদককে বলেন, কেন্দ্র আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই সাজন কুমার মিস্ত্রী নামে একজনকে মনোনয়ন দিয়েছে। এই নেতার বাড়ি কোথায় আমরা জানি না। এলাকার মানুষও তাকে চেনে না। দল আমাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই প্রার্থী দেওয়ায় আমরা সাজনের নির্বাচনী কোনো কাজে অংশগ্রহণ করব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে জানতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাজন কুমার মিস্ত্রীর মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি তা রিসিভ করেননি।
আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও বাগেরহাট-৪ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী বলেন, বাগেরহাট-৪ আসনে আগামী ২১ মার্চে অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ১ মার্চ প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিম এই প্রতিবেদককে বলেন, এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচনের পরিবেশ নেই। তাই আমরা বাগেরহাট-৪ আসনের উপনির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
উল্লেখ্য, গত ১০ জানুয়ারি বাগেরহাট-৪ আসনের সাংসদ ডা. মোজাম্মেল হোসেনের মৃত্যু হলে আসনটি শূন্য হয়।
