সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বাংলাদেশির অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। গতকাল বুধবার ঢাকায় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। তার শরীরে কোনো ওষুধ কাজ করছে না। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৩ দিন ধরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
অন্যদিকে, করোনাভাইরাস নিয়ে কোনো ধরনের গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তারা করোনাভাইরাস নিয়ে বিভ্রান্তকর তথ্য না ছড়িয়ে সঠিক তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাস আক্রান্ত বাংলাদেশির ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজ (গতকাল বুধবার) সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিভিয়ান বালাকৃষ্ণান আমাকে ফোন করেছিলেন। উনি জানালেন, প্রবাসী যে চারজন বাংলাদেশি অসুস্থ তার মধ্যে একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। তার বয়স ৩৯ বছর। তিনি বহুদিন ধরে কিডনি, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। এর মধ্যে এটি ধরা পড়ে। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন, তারা সর্বোচ্চ সেবা দিচ্ছেন। তবে গতকাল থেকে ওই রোগীর মেডিসিন কাজ করছে না। ১৩ দিন ধরে ওই ব্যক্তি আইসিইউতে আছেন। তার সব খরচ সিঙ্গাপুর সরকার বহন করছে।
তিনি আরও বলেন, আমি সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি, ওই বাংলাদেশির মৃত্যু হলে পরিবার তার লাশ ফেরত আনতে চাইবে। তখন উনি বললেন, সে ব্যবস্থা তারা করবেন। সিঙ্গাপুরের মন্ত্রী আমাদের আরও জানিয়েছেন, সেখানে যেসব বাঙালি আছেন, তাদের বিশেষ যতœ নেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, সিঙ্গাপুরে আক্রান্ত ৮১ জন রোগীর মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক; তারা আইসিইউতে আছেন। তাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি রয়েছেন। আমরা সবার কাছে দোয়া চাইছি, ইনি যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। উনি আগে থেকেই হাঁপানির রোগী ছিলেন। প্রথম বাংলাদেশি রোগী হিসেবে তিনি শনাক্ত হয়েছিলেন। উনি চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন ওখানে।
দেশে পশুপাখি থেকে করোনাভাইরাস ছড়ানোর শঙ্কা এখনো নেই জানিয়ে অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, বাংলাদেশে কোনো পশুপাখির মধ্যে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নেই। তবে অসুস্থ বা যেকোনো ইনফেক্টেড প্রাণী থেকে দূরে থাকার জন্য বলছি আমরা।
অন্যদিকে, করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে গতকাল বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে নার্সিং অধিদপ্তরের নতুন ভবন পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা চলছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। করোনাভাইরাস নিয়ে একশ্রেণির মানুষ গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে। মুরগির মাংস খাওয়া, মাস্ক ব্যবহার করা থেকে শুরু করে বিদেশফেরত সুস্থ মানুষকে নিয়েও গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রতিদিনই আপডেট দেওয়া হচ্ছে এবং করণীয় বিষয়গুলো বলা হচ্ছে উল্লেখ করে জাহিদ মালেক বলেন, সুতরাং কোথাও কোনো রকম গুজব ছড়ানো যাবে না এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনার বাইরে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো ধরনের কথায় কান দেওয়া যাবে না। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য খাত সব দিক দিয়ে এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
একইভাবে নতুন করোনাভাইরাস নিয়ে গুজবে জনমনে যেন বিভ্রান্তির সৃষ্টি না হয় তা নিশ্চিত করতে সংবাদমাধ্যমকে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইইডিসিআর পরিচালক। গতকাল আইইডিসিআর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গুজব ছড়িয়ে যাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে বা ভুল পদক্ষেপ যেন না হয়, আমরা সেদিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। সব পর্যায়ে সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে। সে জন্য সঠিক তথ্যটা পৌঁছে দিলে কিন্তু গুজব এমনিতেই চলে যায়। আমরা যেন অথেন্টিক সোর্সের তথ্যগুলোই পরিবেশন করি, চর্চা করি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, আপনাদের মাধ্যমে সঠিত তথ্যটা যেন সবার কাছে পৌঁছে যায়, সে জন্য প্রতিদিন আমরা প্রেস ব্রিফিং করে যাচ্ছি। আমাদের কাছে এমন কোনো বিশেষ তথ্য নেই, যেটা প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে না বললে মানুষ জানবে না। কিন্তু তারপরও আমরা প্রেস ব্রিফিং করছি, কারণ আমরা আপনাদের সহযোগী হিসেবে চাই যেন মানুষের মধ্যে আতঙ্ক গুজব ছড়িয়ে না পড়ে, মানুষ সঠিক তথ্যটা যেন পায়।
দেশে এখন পর্যন্ত ৭৪ জনের নমুনার পিসিআর পরীক্ষা করা হলেও কারও মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়নি বলে জানান অধ্যাপক ফ্লোরা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে পিসিআর পরীক্ষার সুযোগ আছে কেবল আইইডিসিআরে। সে কারণে কারও মধ্যে সংক্রমণের সন্দেহ দেখা গেলে আইইডিসিআরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, আমরা যারা চীনের বাইরে আছি, তাদের অতটা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা বারবার বলেছি, যেহেতু ঝুঁকি রয়েছে, তাই আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। দেশের বাইরে থেকে সর্দি, কাশি, জ্বর নিয়ে কেউ এলে তাদের আমরা শনাক্ত করে আলাদা করে রাখছি, যেন কোনোভাবেই করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে না পারে।
