ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় ‘নিখোঁজ নাটক’ সাজিয়ে উল্টো ফেঁসে গেলেন ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. ইউনুছ ভূঁইয়া (৪০)।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, ইউনুছ ভূঁইয়া আড়াইসিধা ইউনিয়নের দগীরাসার গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আড়াইসিধা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি।
আনিসুর রহমান জানান, ৩১ জানুয়ারি রাতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ফোন দিয়ে ইউনুছকে হুমকি দেন। ইউনুছ বিষয়টি স্ত্রী ও তার স্বজনদের অবহিত করেন। ১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ব্যবসার কাজে বাড়ি থেকে বের হয়ে আশুগঞ্জ উপজেলা সদরের গোলচত্বর এলাকায় যান ইউনুছ। এরপর যুবদল নেতা ইউনুছ হঠাৎ ‘নিখোঁজ’ হন। এ ঘটনায় ২ ফেব্রুয়ারি ইউনুছের স্ত্রী পারভীন আক্তার আশুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
পুলিশ সুপার বলেন, ৪ ফেব্রুয়ারি পারভীনকে ফোন করে ইউনুছের মুক্তির জন্য টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা। পারভীন অপহরণকারীদের দেওয়া নম্বরে বিকাশের মাধ্যমে পাঁচ হাজার ১০০ টাকা পাঠান। টাকা কম হওয়ায় অপহরণকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে মুঠোফোন নম্বরটি ফোনটি বন্ধ করে দেয়। পরে ১০ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করে আশুগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুমন চন্দ্র দাস শনিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে ইউনুছকে উদ্ধার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে ইউনুছ জানিয়েছেন, পলাতক থাকার সময় বিভিন্ন জনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য পরিবারের লোকজন দিয়ে থানায় মামলা দায়ের করান তিনি।
পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্যই ইউনুছ নিজের নিখোঁজ নাটক সাজান।
সংবাদ সম্মেলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোজাম্মেল হোসেন রেজা, সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) মাসুদ রানা, সহকারী পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান ভূঁইয়া ও আশুগঞ্জ থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
