চীনের ভূখণ্ডের বাইরে লাফিয়ে বাড়ছে সর্বনাশা নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। কভিড-১৯ নামে ভাইরাসটিতে বিপর্যস্ত দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, ইরান ।
ভাইরাসটিতে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ২৪৬০ জনের অধিক, যার মধ্যে ২৬ জন ছাড়া বাকি সবার মৃত্যু ঘটেছে চীনে।
আলজাজিরা জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার নতুন করে সংক্রমণ ঘটেছে ১৬১ জনের দেহে। এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৭৬৩।
ইতালিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ জনে। সংক্রমণ ঘটেছে অন্তত ১৫২ জনের দেহে। ইউরোপে ভাইরাসটির সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার।
ইতালির ১২টির শহর অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দাকে ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শহরগুলোতে বের হওয়া এবং সেখানে প্রবেশ করার মধ্যে আরোপ করা হয়েছে কড়াকড়ি।
সন্দেহভাজন করোনা রোগী থাকার আশঙ্কায় ইতালি থেকে আগত একটি ট্রেন ঢুকতে দেয় অস্ট্রিয়া। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করে।
ইউরোপে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে ফ্রান্স। প্রতিবেশী দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে তারা শঙ্কিত। ফরাসি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওলিভিয়ের ভেরান ইউরোপের সবগুলো দেশকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও প্রস্তুতির জন্য আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ইরানে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ জনে। চীনের বাইরে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মৃত্যু। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩ জন, যার অধিকাংশই শিয়া পবিত্র নগরীর কৌমের বাসিন্দা।
ইরানের সঙ্গে নিজেদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে ইরাক, পাকিস্তান, আরমেনিয়া, তুরস্ক। আফগানিস্তান আকাশ ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির সঙ্গে।
এদিকে চীনের বাইরে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির হিসেবে গতকাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৭৮ হাজার ৮১০ জন।
