মাহাথির কেন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী?

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:২৬ পিএম

নাটকীয় পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া মাহাথির মোহাম্মদকে নিয়ে মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে চলছে কানাঘুষা। পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে রাজা কেন তাকে আবার দায়িত্ব দিলেন, সেটি নিয়ে চলছে চর্চা।

পেনাংয়ের উপ-মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড. পি রাসমামির ধারণা, এই পদত্যাগ মাহাথিরের রাজনৈতিক খেলা হলেও ‘মাস্টারমাইন্ড’ তিনি নন।

সোমবার বিকেলে তিনি বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতির মাস্টারমাইন্ড মাহাথির বলে আমি মনে করি না। আসল খেলা দেখতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

এদিন সকালে আচমকা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান মাহাথির। সন্ধ্যা নাগাদ সরকারের মুখ্য সচিব দাতুক সেরি মোহাম্মদ জুকি আলী জানান, তাকেই আবার প্রধানমন্ত্রী করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার সংবিধান অনুযায়ী রাজাকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হতো। তিনি ইচ্ছা করলে স্থায়ী অথবা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে অন্য কাউকে নিয়োগ দিতে পারতেন।

২২ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০০৩ সালে সরে দাঁড়িয়েছিলেন মাহাথির। এরপর ৯২ বছর বয়সে আবার আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতির মঞ্চে হাজির হন। যে দলের হয়ে এর আগে পাঁচটি নির্বাচনে জিতেছিলেন তিনি, ভোটযুদ্ধে লড়েন তারই বিরুদ্ধে।

ওই নির্বাচনে তার একসময়ের শিষ্য নাজিব রাজাককে পরাজিত করেন। তার দল ‘ইউনাইটেড মালয়িস ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন’কে হারিয়ে এক সময়ের প্রতিপক্ষ পাকাতান হারাপান কোয়ালিশনের নেতৃত্ব দেন।

আনোয়ার ইব্রাহিমকে প্রধানমন্ত্রী করার প্রতিশ্রুত দিয়ে মূলত ক্ষমতায় আসেন তিনি। কিন্তু এতদিন বাদেও ক্ষমতা হস্তান্তর করেননি। আনোয়ার গত কয়েক মাসে একাধিক বৈঠক করেও ক্ষমতা নিতে পারেননি।

এই পরিস্থিতিতে মাহাথিরের সমর্থকেরা আনোয়ারকে এড়িয়ে নতুন একটি জোট গড়ার চেষ্টা করছিলেন। তার ভেতরই মাহাথির পদত্যাগ করেন।

মালয়েশিয়ায় সমকামিতা গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রাজনীতিতে এর ব্যবহার শুরু হয়েছিল আনোয়ার ইব্রাহিমকে দিয়ে। নিজের আগের আমলে এই অভিযোগেই আনোয়ারকে কারাগারে আটকে রেখেছিলেন মাহাথির।

মাহাথির পদত্যাগ করতে পারেন এমন গুঞ্জন কয়েকদিন ধরেই ছিল। রবিবার দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনেও এই আভাস দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, নিজেকে আরও শক্তিশালী করতে মাহাথির পদত্যাগ করতে পারেন।

ইউনিভার্সিটি অব নটিংহাম মালয়েশিয়া’স রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক ব্রিজেট ওয়েলশ অন্তত তেমনটিই মনে করছেন, ‘রাজা মাহাথিরকে রেখে দিতে চাইছেন বলে মনে হচ্ছে। আনোয়ারকে ক্ষমতাহীন করার কৌশল হতে পারে এটি।’

‘২০১৮ সালের মে মাসের পর থেকে মাহাথিরের হাতে বেশি ক্ষমতা। কারণ অন্য দলের ওপর তাকে অতটা নির্ভর করতে হচ্ছে না। এখন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজেকে আরও বেশি গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন তিনি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত