দিল্লির সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২০, সেনা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:৩৫ পিএম

বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে টানা চতুর্থ দিনের সহিংসতায় ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নিহত বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে দুই শতাধিক।

এই সময় আরও জানিয়েছে, দিল্লির মৌজপুর, ব্রহ্মপুরী, ভজনপুরা চক, গোকুলপুরীসহ বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বুধবার এক টুইটে বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন করা উচিত। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কেজরিওয়াল আরও লিখেন, পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক। চেষ্টা সত্ত্বেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আস্থা ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছে। সেনা মোতায়েন এবং আক্রান্ত বাকি এলাকাগুলোতে কারফিউ জারি করা প্রয়োজন।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে সহিংসতাপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

দিল্লির মৌজপুর, জাফরাবাদ, কারওয়ালনগরে ও চাঁদবাগে কারফিউ জারি করা হয়েছে। এসব এলাকায় দাঙ্গাকারীদের ‘শুট অ্যাট সাইট তথা দেখা মাত্র গুলির’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাফরাবাদ, মৌজপুর-বাবারপুর, গোকুলপুরি, শিব বিহার ও জোহরি এনক্লেভ মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো ট্রেন দাঁড়াবে না। ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। দিল্লির আরও ১০ জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ‘হিন্দুয়োঁ কা হিন্দুস্তান’, ‘জয় শ্রীরাম’- এসব স্লোগান দিয়ে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও মসজিদে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

বিবিসি বাংলা জানায়, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে দেখা যাচ্ছে।

বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে বিক্ষোভ বন্ধে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রার আল্টিমেটামের কয়েক ঘণ্টা পর রবিবার রাজধানী দিল্লিতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা শুরু করে আইনটির সমর্থকরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত