চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বাংলাদেশে না এলেও প্রতিরোধে তিন ধাপে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআর সমন্বিতভাবে এই প্রস্তুতির খসড়া তৈরি করছে। আগে থেকেই প্রস্তুতি রয়েছে। এখন রোগী পাওয়া গেলে কী করা হবে সেসব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।’
এক প্রশ্নের উত্তরে আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, ‘তিন ধাপের একটি হচ্ছে অ্যালার্ট লেভেল যখন কোনো রোগী নেই, এখন সেই কর্মসূচি আমরা পালন করছি। যখন বিদেশ থেকে রোগী পাওয়া যাবে, অল্প সংখ্যায় সেটা আরেকটা লেভেল। আর শেষটা হলো যদি অনেক রোগী হয়ে যায়, সেই লেভেল।’ তবে বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘সম্মিলিতভাবে আমরা যে কার্যক্রম নিচ্ছি, তাতে আশঙ্কা করি না যে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। এটি পরীক্ষার উপকরণের কোনো সমস্যা আপাতত নেই। আরও কিট আসার প্রক্রিয়া পাইপলাইনে রয়েছে, এটি অব্যাহত থাকবে। চীন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে কিট আনা হচ্ছে।’
চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘করোনার তো কোনো আলাদা চিকিৎসা নেই। কমন কোল্ডের চিকিৎসা দিতে হবে, এদের আইসোলেশনে রাখতে হবে যেহেতু রোগটা ছোঁয়াচে।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক আরও বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের ৮০ ভাগের বেশি মৃদু, ১৪ শতাংশের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয়েছে এবং ৬ শতাংশ জটিল অবস্থা নিয়ে আইসিইউ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন।’
এ সময় তিনি জানান, বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন চারজনসহ এখন পর্যন্ত মোট ৮৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলেও তাদের কারও শরীরে ভাইরাসটির জীবাণু পাওয়া যায়নি। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সিঙ্গাপুরে ৫ জন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে একজন বাংলাদেশির অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে বলেও জানান সেব্রিনা ফ্লোরা।
তিনি বলেন, ‘চীনের বাইরে সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও ইতালিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে সেসব দেশে থাকা বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’ যে দেশগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি এবং সুস্থ রোগীদের আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে, সেসব দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং ভ্রমণ শেষে স্ক্রিনিংয়ের মধ্য দিয়ে আসার অনুরোধ করেন আইইডিসিআরের এই পরিচালক।
