বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। বেলা ২টায় জামিন প্রশ্নে আদেশ দেবে হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কে এম জহিরুল হকের যুগ্ম-বেঞ্চ এ সময় ধার্য করেন।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য প্রতিবেদন আদালতের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর শুনানি শুরু হয়।
খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও আইনজীবী জয়নুল আবেদীন।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন খুরশিদ আলম খান খান।
শুনানি শেষে দুদকের আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, জামিন আবেদন প্রশ্নে হাইকোর্টের তিনটি প্রশ্ন ছিল। প্রথম প্রশ্ন ছিল- আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্মতি দিয়েছেন কিনা। তিনি সম্মতি দেননি বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ।
‘তাই আদালতের দ্বিতীয় প্রশ্ন উনাকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে কিনা- সেই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার কিছু নেই। কারণ উনি (খালেদা জিয়া) তো সম্মতিই দেননি। আর তৃতীয় প্রশ্নের জবাবে উনার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার একটি বর্ণনা দিয়েছে মেডিকেল বোর্ড’ যোগ করেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা ও তার জামিন চেয়ে করা দুটি আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গত ২৩ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার চিকিৎসাসংক্রান্ত তিন তথ্য জানতে চায়। আদালতের আদেশে বলা হয়, মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী খালেদা জিয়া অ্যাডভান্স চিকিৎসার জন্য সম্মতি দিয়েছেন কি না, দিলে সেই চিকিৎসা শুরু হয়েছে কি না এবং শুরু হয়ে থাকলে সবশেষ অবস্থা কী, তা বিএসএমএমইউ উপাচার্যকে কোনো রকম ব্যর্থতা ছাড়াই বুধবার বিকেল ৫টার মধ্যে প্রতিবেদন আকারে জানাতে হবে। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির পরবর্তী দিন ঠিক করে আদালত।
দুর্নীতির দুটি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন কারা কর্তৃপক্ষের অধীনে গত এপ্রিল থেকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বুধবার বিএসএমএমইউর আইন কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিলগালা করা মেডিকেল বোর্ডের ওই প্রতিবেদন ১১টার কিছু পরে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।’
গত ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালত খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়। সাজা বাতিল চেয়ে একই বছরের ১৮ নভেম্বর হাইকোর্টে করা খালেদার জিয়ার আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
এ মামলায় গত বছরের ৩১ জুলাই তার জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। পরে ওই আদেশ বাতিল ও জামিন চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করলে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর সে আবেদনটিও খারিজ হয়ে যায়।
এরপর দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসা ও থেরাপির আর্জি জানিয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আইনজীবীর মাধ্যমে ফের হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন খালেদা জিয়া।
বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা বলছেন, কারামুক্তি পেতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার পাশাপাশি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাতেও তাকে জামিন পেতে হবে।
গত ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। এরপর সাজা থেকে খালাস চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের আপিল ও সাজা বৃদ্ধি চেয়ে দুদকের করা আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট তারা সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর কারাদণ্ড দেয়। এই সাজা বাতিল চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আপিল সর্বোচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
