ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ টিএইচও’র বিরুদ্ধে

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৩:২৯ পিএম

সরকারি গাড়ির অপব্যবহার ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার না করা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞায় কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষের। বেশির ভাগ সময় ব্যক্তিগত কাজেই তিনি ব্যবহার করছেন সরকারি গাড়ি।

তাতে একদিকে যেমন জ্বালানি তেল বেশি যাচ্ছে সরকারি কোষাগার থেকে। তেমনি ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগের। অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি চিকিৎসক শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে দিনাজপুরের একটি উপজেলায় টিএইচও এবং মাদারীপুর সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিবচরে যোগদানকালে সরকারের পক্ষ তাকে সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য কালো রঙের উন্নতমানের একটি গাড়ি দেওয়া হয়। নিয়ম রয়েছে সরকারি কাজ ছাড়া উপজেলার বাইরে গাড়ি নিয়ে যেতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও সংশ্লিষ্ট কারণ থাকতে হবে। অথচ শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ শিবচর উপজেলার বাইরে প্রতিনিয়ত মাদারীপুর জেলা সদরে আসেন। যা শিবচর উপজেলা থেকে শহরের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। এমনকি এই গাড়িতে চড়েই শহরের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগী দেখেন তিনি।

এ ছাড়া মাদারীপুর শহরের ইটেরপুলে অবস্থিত ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজ ও হরিকুমারিয়ার শহীদ বাচ্চু সড়কের তাজননেছা নার্সিং ইনস্টিটিউটে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ক্লাস নেন। এসব কারণে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করায় জ্বালানি তেল বেশি লাগছে। তাতে বদনাম ছড়াচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগের।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) শহরে তার বাসার সামনে নিয়মিত রোগী দেখেন। এ ছাড়া নার্সিং ইনস্টিটিউটেও ক্লাস নেন। এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন সরকারি গাড়ি। এ ব্যাপারে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

গাড়ির চালক রাকিবুল হাসান বলেন, “স্যার আমাকে যেখানে যেতে বলে আমি যাই। আজকে স্যার প্রথমে তার বাসায় নামেন। পরে আমি গাড়ির কাজে কাগজপত্র ঠিক করতে বিআরটিএ চলে যাই। এরপরে ফোন দিয়ে আমাকে তাজননেছা নার্সিং ইনস্টিটিউট এর নিচে আসতে বলে, আমি বিআরটিএ থেকে এখানে চলে আসি। পরে তাকে নিয়ে আরেকটি নার্সিং ইনস্টিটিউটে যাই।”

আপনার টিএইচও স্যার শহরে গাড়ি নিয়ে কোথায় কোথায় যায় এমন প্রশ্ন করলে চালক রাকিবুল হাসান আরও বলেন, “স্যার তার বাসায় যান। দুই থেকে তিনটি নার্সিং-এ ক্লাস নেন।”

এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ বলেন, “গাড়ি আমি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করিনি। ড্রাইভার আমাকে বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মাদারীপুর শহরের বাসায় নামিয়ে দেয়। পরে সে বিআরটিএ গাড়ির কাগজ ঠিক করতে যায়। এরপরে আমাকে নার্সিং ইনস্টিটিউটের নিচ থেকে নিয়ে চলে যায়। এতে সরকারি গাড়ির অব্যবহার হচ্ছে না।”

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি ব্যক্তিগত কাজে ওই চিকিৎসক সরকারি গাড়ির ব্যবহার করেন। তাহলে তার বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ব্যবস্থা নেবেন।

সরকারি যেকোনো যানবাহন ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে জানিয়ে মাদারীপুরের সিভিল সার্জন মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, চাইলেই তার ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন না।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত