ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরোধী ও সমর্থকদের সংঘর্ষে রক্তাক্ত রাজধানী দিল্লি। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সংঘাতে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষান রেড্ডি হাস্যকর দাবি তুলেছেন। তার মতে, ‘ভারতকে অপমান করার ষড়যন্ত্র’ হিসেবে সংঘাত জারি রাখা হয়েছে। অথচ এই দিল্লিতেই সিএএ বিরোধী টানা ৭০ দিনের আন্দোলনে সহিংসতা হয়নি। বেশিরভাগই মুসলিম নারী ও শিশু আন্দোলনকারী ইট ছোড়েনি, দোকান ও বাড়িঘরে আগুন দেয়নি। ধরনাকালে তারা জাতীয় পতাকা ও সংবিধান বহন করেন; ড. বিআর অমেদকর, মহাত্মা গান্ধী ও মওলানা আজাদের ছবি রাখেন।
তাহলে শান্তির দিল্লিতে হঠাৎ কেন সংঘাত? কে চেয়েছে? কারা এটি ঘটতে দিয়েছে? দি ওয়ার বলছে, বলার অপেক্ষা রাখে না, এই সংঘাত ও জাতিগত দাঙ্গা ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ আহ্বানের ফল। বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রের আহ্বানকে বাস্তবায়ন করেছে দিল্লি পুলিশ। কিন্তু পুলিশই ব্যর্থতা ঢাকতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উসকানিমূলক প্রতিবেদন দিয়েছে। কপিল মিশ্রের ভাষায়, হিন্দুত্ববাদী উচ্ছৃঙ্খলরা উত্তর-পূর্ব দিল্লির সিএএ বিরোধীদের ওপর হামলা করেছে। তবে নিরপেক্ষ তদন্ত বলছে, এ হামলা স্বতঃস্ফূর্ত হয়নি। তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। হামলার আকস্মিকতায় আন্দোলনকারীরা পিছু হটে। কিন্তু দিল্লি পুলিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ইচ্ছেপূরণে হিন্দুত্ববাদীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাকি কাজ সারে। জয় শ্রীরাম সেøাগান দিয়ে হামলাকারীরা মসজিদ ও মুসলিমদের দোকান এবং বাড়িঘরে আগুন দেয়। অনেকটা বাবরি মসজিদের মিনারে চড়ে ভাঙার দৃশ্য ফিরে আসে। সবকিছু দৃশ্যমান হলেও কিষান রেড্ডির দাবি, এগুলো ভুয়া সংবাদ। অবশ্য সত্যকে অস্বীকার মোদি সরকারের জন্য নতুন কিছু নয়। আগেও জয় শ্রীরাম স্লোগান দিয়ে সব হামলাকে তারা নাকচ করে এসেছে। ১৯৮৪ সালে কংগ্রেসের সময়ে শিখদের এবং ২০০২ সালে গুজরাটে মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সময়ে মুসলিমদের গণহারে হত্যা করা হলেও, এখনকার মতো দুটি ঘটনাতেই তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা সব হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরকালে মোদি, অমিত ও বিজেপির এমন সংঘাত চাওয়ার পেছনে ভোটের রাজনীতি রয়েছে। তারা সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়িয়েছেন। আম আদমি পার্টির কাছে নির্বাচনে ভরাডুবির প্রতিশোধ নিতে সংঘাতের মতো বেপরোয়া রাজনীতি বেছে নিয়েছে মোদি সরকার।
