‘টাকা আদায় করতে’ মধ্যরাতে বাড়িতে হানা পুলিশের!

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২০, ০৬:৪৫ পিএম

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে কোনো অভিযোগ, মামলা বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই মধ্যরাতে এক বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে হোসেনপুর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ওই পরিবার।

শনিবার মধ্যরাতে উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মিয়াফর আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশ এর আগেও বিভিন্ন বাড়িতে হানা দিয়ে ভুয়া আসামি সাজিয়ে টাকা আদায় করে আসছিল।

শনিবারের হয়রানি ও ভাঙচুরের বিচার দাবিতে রোববার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, জেলার হোসেনপুরের গোবিন্দপুর গ্রামের অসুস্থ মিয়াফর আলী তার তিন ছেলে নিয়ে বসবাস করে আসছেন। তারা কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ, মামলা বা ওয়ারেন্ট ছাড়া হঠাৎ শনিবার থানার এসআই, তিন-চারজন এএসআইসহ ১০/১২ জনের একদল পুলিশ রাত সাড়ে ১২টার দিকে মিয়াফর আলীর বাড়িতে যায়। তারা তার তিন ছেলে আকরাম হোসেন, রিয়াদ মিয়া ও তাজিন আহম্মেদকে খুঁজতে ঘরে হামলা চালায়। পুলিশ তারা দরজায় লাথি মারতে থাকলে ঘরে থাকা তাদের মা আছিয়া খাতুন দরজা খুলে দেন। এ সময় পুলিশ ঘরে ঢুকে করে দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। তিন ভাইকে ঘরে না পেয়ে ‘গালিগালাজ’ করে। পুলিশ থানার ওসির সঙ্গে তাদের দেখা করতে বলে। এ সময় তার তিন ছেলে জমিতে ‘পানি সেচের’ কাজ করছিল। পুলিশের হামলার কথা শুনে ভয়ে রাতেই তারা পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিয়াফর আলীর ছোট ছেলে তাজিন আহম্মেদ এ্যাপোলো জানান, আমি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি হিসেবে রাজনীতি করি এবং আমরা সবাই কৃষি কাজ করে জীবন-যাপন করি। আমরা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। তারপরও পুলিশ আমাদের অন্যায়ভাবে হয়রানি করছে। থানায় আমাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই। কিন্তু থানায় মামলা ও ওয়ারেন্ট ছাড়াই মধ্যরাতে ওসির নির্দেশে তারা আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। আটকের ভয়ে শনিবার রাত থেকে এখনো বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।

আছিয়া আক্তার জানায়, হঠাৎ রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাঁচ-সাতটি মোটরসাইকেলে থানার ১০/১২ পুলিশ আমাদের বাড়িতে আসে। পরে দরজা খুলতে বলে চিৎকার করে। তারা দরজায় লাথি মারতে থাকে। একপর্যায়ে দরজা খুলে দিলে পুলিশ অফিসার মোহাম্মদ বাপ্পী, সাইফুল ইসলাম, মো. হাবিব, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. ফরিদ মিয়াসহ সবাই ঘরে জোর করে ঢুকে পড়ে। এ সময় আমার ছেলেদের না পেয়ে তারা ঘরের দরজা-জানালা ও রান্নাঘরের চুলা ভাঙচুর করে থানায় দেখা করতে বলে। আতঙ্কে এখন সবাই পালিয়ে বেড়াচ্ছি।

গোবিন্দপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম হিমেল বলেন, আমি বিষয়টি সকালে শুনেছি। আকরাম, রিয়াদ ও তাজিনকে অনেক ভালো জানি। তাদের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই। তবু তারা হয়রানির শিকার। এটা দুঃখজনক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই পরিবারের বড় ছেলে আকরাম হোসেন কিছু দিন আগে বিদেশ থেকে ফিরেছেন। এ খবর পেয়ে পুলিশ তার কাছ থেকে টাকায় আদায়ের জন্য এসব করে থাকতে পারে। এর আগেও তারা এভাবে বিভিন্ন পরিবারকে হয়রানির মধ্যে ফেলেছে।  

হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শেখ মোস্তাফিক রহমান তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আকরাম, রিয়াদ ও তাজিনের বিরুদ্ধে থানায় মৌখিক অভিযোগ রয়েছে। তাই পুলিশ পাঠিয়ে ছিলাম। অভিযোগ কী তা ফোনে বলা যাবে না। তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি। 

কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, এ ব্যাপারে আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে ঘটনার সত্যতার প্রমাণ পেলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।    

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত