রাজশাহীর গোদাগাড়ীর কাদিরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বাবা-মেয়ের মধ্যে রমজান আলী (৩০) মারা গেছেন। গতকাল রবিবার সকাল ৬টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ নিয়ে ওই ঘটনায় পরিবারের ছয়জনের মৃত্যু হলো। বর্তমানে রমজানের তিন বছরের শিশুকন্যা আফিয়া চিকিৎসাধীন রয়েছে। রমজান আলী গোদাগাড়ী পৌরসভার কেল্লা বারুইপাড়া এলাকার বাসিন্দা আসাদুল ইসলামের ছেলে। রমজান আলীর মৃত্যুর ফলে ওই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৮। এর আগের দিন শনিবার দুর্ঘটনায় রমজান আলীর স্ত্রী আসিয়া খাতুন মারা যান।
গত শনিবার সকালে রাজশাহী শহর থেকে ভাইয়ের বিয়েতে যোগ দিতে স্বামী-সন্তানদের নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে রওনা দিয়েছিলেন দুই বোন হাসনারা বেগম ও আসিয়া খাতুন। পথে রাজশাহী-গোদাগাড়ী মহাসড়কের কাদিরপুর নামক স্থানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায় বেপরোয়া গতির মাইক্রোবাসটি। ওই দিন পরিবারের পাঁচজনসহ প্রাণ হারান ৭ জন।
গতকাল পর্যন্ত নিহতরা হলেন রাজশাহী নগরীর মোন্নাফের মোড় এলাকার মোশাব্বের আক্কাস আলী (৪০), তার স্ত্রী হাসনারা বেগম (৩৫), তাদের শিশুসন্তান আদিব আল হাসান (৪ মাস) ও মুশফিরা খাতুন (৮), হাসনারা বেগমের বোন আসিয়া খাতুন (৩০), তার স্বামী রমজান আলী (৩০), তাদের স্বজন রাজশাহী মহিলা পলিটেকনিকের শিক্ষার্থী আতিয়া পূর্ণিমা (২৩) ও নগরীর মেহেরচ-ী এলাকার প্রাইভেট কারের চালক মাহবুবুর রহমান।
রমজান আলীর চাচাশ্বশুর আবদুল খালেক বলেন, রমজান আলী ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। পরিবার নিয়ে ঢাকাতেই থাকতেন। শনিবার শ্যালক সেলিম রেজার বিয়ে ছিল। এই বিয়েতে যোগ দেওয়ার জন্য তারা সপরিবারে শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে আসেন। রাজশাহীতে মোন্নাফের মোড়ে তার ভাইরা ভাই মোশাব্বের আক্কাস আলীর বাড়িতে ওঠেন। শনিবার সকালে তারা প্রাইভেট কার নিয়ে শ্যালকের বিয়েতে গোদাগাড়ীর মহিশালবাড়ি যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।
