সুন্দরবনে জেলেদের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করে টাকা নেওয়ার পর সেই টাকার কিছু অংশ ফেরত দিয়েছেন বন বিভাগের ভদ্রা ক্যাম্পের ওসি রবিউল ইসলাম। জেলেদের কাছ থেকে নেওয়া ৮৮ হাজার টাকার মধ্যে গত সোমবার ৬০ হাজার টাকা ফেরত দেন পশ্চিম সুন্দরবনের ভদ্রা ক্যাম্পের ওসি রবিউল।
ওইদিন খুলনা বন বিভাগের বয়রাস্থ বন সংরক্ষকের কার্যালয়ের নিচে বসে মোংলার চাঁদপাই বন ব্যবস্থাপনা কমিটির (সিএমসি) সদস্য ওবায়দুলের মধ্যস্থতায় ওসি রবিউল ওই টাকা ফেরত দেন। নির্যাতনের শিকার জেলে নির্মল, আল আমিন ও আলমগীর গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এছাড়া বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও এই স্বীকারোক্তি দেন ভুক্তভোগী জেলেরা। গত ১ মার্চ দেশ রূপান্তরে এ নিয়ে ‘পশ্চিম সুন্দরবনের ভদ্রা ক্যাম্প : ওসির বিরুদ্ধে নির্যাতন করে টাকা আদায়ের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ২ মার্চ ওসি জেলেদের ডেকে টাকা ফেরত দেন।
উল্লেখ্য, গত ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই স্টেশন ও ঢাংমারি স্টেশন থেকে বনের অভ্যন্তরীণ খালে সাদা মাছ ধরার জন্য পাস পারমিট (বন বিভাগের অনুমতিপত্র) নিয়ে পাঁচটি নৌকাসহ জেলেরা মাছ ধরতে যান। পরে পশ্চিম সুন্দরবনের ভদ্রা ক্যাম্পের ওসি রবিউল এবং ওই ক্যাম্পের ট্রলার মাঝি বাদশা ১০ জেলেকে ধরে নিয়ে ক্যাম্পে আটকে রেখে নির্যাতন করেন। অবৈধভাবে বনের ভিতরে মাছ শিকারের অজুহাত দেখিয়ে তাদের কাছে ওসি রবিউল দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু জেলেরা তাদের বন বিভাগ প্রদত্ত বৈধ পাস পারমিট দেখালে তাতে আরও ক্ষিপ্ত হন ওসি। ওই সময় জেলেদের পাঁচটি নৌকায় থাকা প্রায় সাড়ে তিন মণ কোরাল, কাইন ও জাবাসহ কয়েক প্রজাতির সাদা মাছ ওসি রবিউল লুটে নেন বলেও জেলেরা অভিযোগ করেন। এছাড়া ওসি গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ওসির ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে দুপুর ২টা ৩১ মিনিটে ১৫ হাজার এবং ২টা ৩৬ মিনিটে আরেকটি বিকাশ নম্বরে ১২ হাজার ২৫০ টাকা নেন। ওসির চাহিদা অনুযায়ী ৮৮ হাজার টাকার মধ্য থেকে বাকি টাকা ভদ্রা ক্যাম্পের ট্রলার মাঝি বাদশার স্ত্রীর মাধ্যমে নেন বলেও জেলেরা জানান।
এছাড়া গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ফরেস্ট ক্যাম্পে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে জেলে ইয়াসির সর্দারের কাছ থেকে ৩০ হাজার, শ্যামল সর্দারের কাছ থেকে ৩০ হাজার, নির্মল রায়ের কাছ থেকে ৪০ হাজার এবং রমেশের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা জোর করে নেন ওসি রবিউল। ওই সময় জলদস্যুদের হাতে জিম্মি আছে বলে এসব জেলের বাড়িতে ফোন করিয়ে টাকা আনিয়ে তা হাতিয়ে নেন ওসি রবিউল। এসব কর্মকা-ের বিষয়ে জানতে ওসি রবিউল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সেটি বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) সোহাগ সালেহ বলেন, টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনাতে মনে হচ্ছে ভদ্রা ক্যাম্পের ওসি রবিউলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সত্য। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে বন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
