দিল্লির সহিংসতা ভুলাতে করোনা নিয়ে বিজেপির মাতামাতি: মমতা

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২০, ০৭:৫৬ পিএম

দিল্লির সহিংসতার ঘটনা থেকে চোখ ফেরাতে করোনাভাইরাস নিয়ে মাতামাতি করছে ক্ষমতাসীন বিজেপি, এমনটাই অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, বুধবার মালদহে তৃণমূলের এক সভায় দিল্লির ঘটনা নিয়ে ফের তোপ দাগেন মমতা।

সহিংসতার ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘দিল্লিতে গুজরাত মডেলে গণহত্যা হয়েছে।’

মমতা বলেন, ‘এই ঘটনা পুরো গুজরাটের মডেল। গুজরাতে যা করেছিল, তারই পুনরাবৃত্তি হয়েছে দিল্লিতে। এটা দাঙ্গা নয়, আমি মনে করি এটা একটা গণহত্যা। জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। শিশুর সামনে তার বাবা, মা ভাই বোনকে কেড়ে নিয়েছে। আজও মানুষ জানে না, কত জন মারা গিয়েছে। সরকারিভাবে বলা হচ্ছে ৫০-৫৫ জন। কিন্তু আমাদের কাছে খবর আছে, অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।’

এদিকে মঙ্গলবার থেকেই ভারতে করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার সেটি আরও বেড়েছে। ইতালির একটি পর্যটক দলের ১৬ জনসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৫।  করোনা আতঙ্কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিজেপি সভাপতি জেপি নড্ডা ঘোষণা দেন, হোলির উৎসবে যোগ দেবেন না তারা।

করোনার প্রসঙ্গে মমতার ভাষ্য, ‘করোনা বেরিয়েছে সবে। পশ্চিমবঙ্গে কেউ আক্রান্ত হয়নি। কেউ আক্রান্ত হোক, আমরা চাইও না। কিন্তু দিল্লির ঘটনা যাতে মানুষ মনে না রাখে তাই এখন করোনা করোনা বলে টিভির লোককে দিয়ে আসল ঘটনা ঘুরিয়ে দিতে চাইছে। যাতে লোকে প্রশ্ন না করে, এত লোক কীভাবে মারা গেল।’

সম্প্রতি কলকাতায় সমাবেশ করেন অমিত শাহ। সেই সভায় যোগ দেওয়ার পথে মিছিল থেকে ‘গোলি মারো’ স্লোগান উঠে। সেই প্রসঙ্গে মমতা, ‘এই তো কলকাতায় এসে মিটিং করে গেলে। কেউ বাধা দিয়েছে? অনুমতি না দিলেই বলত, এখানে গণতন্ত্র নেই। মিছিল করে মাথায় ফেট্টি বেঁধে বলছে-গোলি মার। মনে রাখবেন, কলকাতা আর দিল্লি এক নয়। দিল্লিতে তুমি দাঁড়িয়ে থেকে দাঙ্গা করিয়েছ? আর বাংলাতে যারা স্লোগান দিয়েছে, আমি সাত-আটজনকে অ্যারেস্ট করিয়েছি। যারা জড়িত, তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করাব।’

সাধারণ মানুষকে সাবধান করে তিনি বলেন, ‘বাংলায় কোনো ভাগাভাগি নেই। কোনো দাঙ্গা নেই। যারা দাঙ্গার নামে উসকানি দেবে, তাদের থেকে সাবধান থাকবেন। কিছু লোক বাইরে থেকে আসবে, উসকানি দিয়ে দাঙ্গা বাঁধিয়ে চলে যাবে। কিন্তু আপনার ক্ষতি হলে কেউ এগিয়ে আসবে না। আমরাই পাশে থাকব।’

তৃণমূল নেত্রী আরও বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে সিএএ, এনআরসি, এনপিআর করতে দেব না। পশ্চিমবঙ্গ থেকে কোনো মানুষের অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। সিটিজেনশিপ তো সারা বছরই চলে। যে পায়নি সে আবেদন করে। বিজেপির নেতাদের জিজ্ঞেস করুন, তোমার সিটিজেনশিপ কোথায়?’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত