ইউনিটধারীদের সম্মতি ছাড়া মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) বিরুদ্ধে বিদেশি বিনিয়োগকারীর দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ গতকাল এ মামলায় জারি করা সব ধরনের রুল খারিজের আদেশ দেয়। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নুর-উস-সাদিক দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানান।
ইউনিটধারীদের সম্মতি ছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মেয়াদি ইবিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ বাড়ানোকে চালেঞ্জ করে গত ২১ অক্টোবর যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সিটি অব লন্ডন ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করে। এতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ রেস ম্যানেজমেন্ট প্রাইভেট কোম্পানিকে বিবাদী করা হয়।
মামলার আবেদনে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ কোম্পানিটি জানায় যে, ইবিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ বাড়াতে ইউনিটধারীদের কোনো সম্মতি নেওয়া হয়নি, যা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) রুলস, ২০০১-এর ৫০ (বি) ধারার লঙ্ঘন। এক্ষেত্রে ফান্ডটির প্রসপেক্টাসে উল্লিখিত ধারাও মানা হয়নি। এতে সংশ্লিষ্ট আইনের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতে এসইসি ব্যর্থ হয়েছে বলে আবেদনে জানানো হয়।
উক্ত রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২১ অক্টোবর বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খন্দকার দিলিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০০১-এর ৫০-এর খ ধারা কমপ্লায়েন্স ব্যতীত ইবিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ বাড়ানোতে এসইসির ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল জারি করে। একই সঙ্গে রুলে বিবাদি ইবিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড অবসায়ন করে সম্পদ ইউনিটধারীদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়। এছাড়া রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সম্পদ ব্যবস্থাপককে ওই ফান্ড থেকে যেকোনো ধরনের ব্যবস্থাপনা ফি নেওয়া থেকে বিরত থাকারও নির্দেশ দেয় আদালত। আর উভয়পক্ষের শুনানি শেষে গতকাল হাইকোর্টের বেঞ্চ ওইসব রুল খারিজের আদেশ দেয়।
এসইসির সম্মতিতে গত ৫ আগস্ট ইবিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি বাংলাদেশ রেস ম্যানেজমেন্ট ফান্ডটির মেয়াদ আরও ১০ বছর বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এতে ফান্ডটির মেয়াদ ২০২৯ সালের ২৮ আগস্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। মিউচুয়াল ফান্ডটির মেয়াদ বাড়াতে ইউনিট হোল্ডারদের কোনো সম্মতি নেওয়া হয়নি।
