বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত পরিবর্তন চেয়ে এ মামলায় সাক্ষী থেকে আসামি বনে যাওয়া নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির করা আবেদনে সাড়া দেয়নি হাইকোর্ট। শুনানি শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি মো. মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেয়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে এ আবেদনটি করেন মিন্নি।
গতকাল আদালতে মিন্নির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফজলুর রহমান খান।
মিন্নির আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে আইনজীবী ফজলুর রহমান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মিন্নির আবেদনে কোনো সারবত্তা না থাকায় হাইকোর্ট আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন। ইতিমধ্যে এ মামলায় ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আগামী ১০ মার্চ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় সাফাই সাক্ষ্যের জন্য দিন ধার্য আছে। এ প্রক্রিয়া শেষ হলে যুক্তিতর্কের শুনানি হবে। এরপরই মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসবে।’
অন্যদিকে মিন্নির পক্ষের আইনজীবী মাক্কিয়া ফাতেমা জানান, সাক্ষ্যগ্রহণ দ্রুত হওয়ায় ন্যায়বিচার না পাওয়ার শঙ্কায় মামলাটি বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতে বদলির আরজি জানানো হয়। এর আগে এ মামলায় অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ ও আসামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির ক্ষেত্রে মামলায় তার নাম বাতিলের আবেদন গত ২১ জানুয়ারি খারিজ করে দেয় হাইকোর্টের একই বেঞ্চ।
রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গত ১ জানুয়ারি মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় বরগুনার সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত। এরপর মামলায় নাম আসা অপ্রাপ্তবয়স্ক আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত।
গত বছর ২৬ জুন প্রকাশ্যে স্ত্রী মিন্নির সামনে রিফাত শরীফ খুন হওয়ার পরদিন ১২ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। এরপর ১৬ জুলাই বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্ধ্যায় রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতায় প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে মিন্নিকে গ্রেপ্তারের দেখানো হয়। রিমান্ডে নেওয়ার পর ১৯ জুলাই পুলিশ জানায়, রিফাত হত্যার সংশ্লিষ্টতায় মিন্নি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বিচারিক আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়। মিন্নির জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে গত বছর ২৯ আগস্ট তাকে শর্তসাপেক্ষ জামিনের রায় দেয় হাইকোর্ট।
