শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের পোতাজিয়া চক্রবর্তীপাড়া খালের ওপর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি কালভার্ট নির্মাণ করে। কিন্তু নির্মাণের পরপরই একটি প্রভাবশালী চক্র খালের জায়গার মালিকানা দাবি করে কালভার্টটির পশ্চিম পাশের মুখ বালু দিয়ে ভরাট করেছে। এতে কুমুদীঘির বিলের পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
অপরদিকে, এই কালভার্টের দুপাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি এলাকাবাসীর কোনো কাজেই আসছে না। এ ছাড়া কালভার্টটির উচ্চতা কম হওয়ায় স্বাভাবিক বর্ষাতেই এর ওপর দিয়ে পানি উঠে পড়ে। ফলে কালভার্টটি এলাকাবাসীর কোনো উপকারের বদলে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পোতাজিয়া ইউনিয়নের ঘোষপাড়া, ভিটাপাড়া, গাতিপাড়া ও চক্রবর্তীপাড়ার আনিস, আয়শা বেগম ও হাসি খাতুন জানান, বর্ষা মৌসুমে পাশের বিলচান্দ, কেনাই, বহলবাড়ি, বৃ-আঙ্গারু, রেশমবাড়িসহ শাহজাদপুর উপজেলার পশ্চিম অঞ্চলের দুগ্ধ খামারিদের দুধসহ নানা ধরনের কৃষিপণ্য নিয়ে সহজে যাতায়াতের জন্য ও কুমুদীঘির বিলের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়।
কিন্তু এটি নির্মাণের পর ওই গ্রামের প্রভাবশালী আলিফ আলী (৫০) ও তার ছেলে পলাশ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু ফেলে কালভার্টটির পশ্চিম অংশের মুখ বন্ধ করে দেন। ফলে কালভার্টের নিচ দিয়ে পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসন বালু অপসারণের কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে কুমুদীঘির বিলের পানিপ্রবাহ বন্ধ। এতে এলাকার পরিবেশ পড়েছে হুমকির মুখে।
পোতাজিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চক্রবর্তীপাড়া খালের ওপর কালভার্টটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এর মুখ ভরাট করায় পুরো টাকাই এখন বালুচাপা। এ কারণে কালভার্টটির সংযোগ সড়কে মাটি ভরাটের কাজও এখন অনিশ্চিত।
তিনি আরও বলেন, এলাকার স্বার্থে খুব শিগগির কালভার্টটি সচল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কালভার্টটির উচ্চতা নিয়ে তিনি বলেন, নির্মাণ ত্রুটির কারণে স্বাভাবিক বন্যায় এটি ডুবে যায়।
এ বিষয়ে আলিফ ও তার ছেলে পলাশ বলেন, আমাদের জমিতে আমরা বালু ভরাট করেছি। এখানে কালভার্টটি নির্মাণের সময় বাধা দেওয়া হলেও পিআইও অফিসের লোকজন জোর করে এখানে কালভার্টটি নির্মাণ করেছে।
শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, অল্প দিন হলো এখানে এসেছি। তাই এ ব্যাপারে কিছু বলা সম্ভব না। তবে এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অচিরেই ভরাট করা বালু অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
