মাতৃভাষা বাংলার জন্য শহীদ ও ভাষাসংগ্রামীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এজন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন ও আগামী দুই মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়।
ভাষাশহীদ ও সংগ্রামীদের রাষ্ট্রীয় সম্মান, সম্মানী ভাতা ও ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণের নির্দেশনা এবং ভাষাশহীদ ও সংগ্রামীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে তা গেজেট আকারে প্রকাশের নির্দেশনা চেয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করা হয়। এতে মন্ত্রিপরিষদ, সংস্কৃতি এবং অর্থ সচিবকে বিবাদী করা হয়। আবেদনে বলা হয়, বাংলা ভাষার মাধ্যমেই আমরা ভাব ও বাকপ্রকাশ করে থাকি। আমাদের চিন্তা, বিবেক ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই মৌলিক অধিকার যে বীর সন্তানদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাদের রাষ্ট্রীয় সম্মান, সম্মানী ও সম্মাননা দেওয়া পরম দায়িত্ব ও কর্তব্য।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস; সঙ্গে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। পরে সুবীর নন্দী দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ভাষাশহীদ ও ভাষাসংগ্রামীর সম্মানী ও তালিকা চেয়ে আবেদন করেছিলাম। আদালত শুনানি নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে বলেছে, একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের মাধ্যমে ভাষাশহীদ ও সংগ্রামীদের তালিকা করতে হবে।’
