করোনা মোকাবিলায় দিনাজপুরে প্রস্তুত ২৫ শয্যার হাসপাতাল

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২০, ০১:০৭ পিএম

করোনাভাইরাস (কোভিট-১৯) নিয়ে সারা দেশের মতো দিনাজপুরেও সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন অফিস।

গঠন করা হয়েছে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি জেলা কমিটি। করোনাভাইরাসের জন্য জেলার কাহারোল উপজেলায় ২৫ শয্যা বিশিষ্ট একটি নবনির্মিত হাসপাতালকে সকল ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও সিভিল সার্জনকে সদস্যসচিব করে একটি ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রত্যেক উপজেলায় একজন করে চিকিৎসকে ঢাকা থেকে করোনাভাইরাস বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন চিকিৎসক ও নার্সদের অবহিত করা হয়েছে। এ ছাড়া দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও কনসালটেন্টদের নিয়ে আইসিইউ গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস শনাক্তে রংপুর বিভাগের ৮টি জেলায় আইইডিসিআর এর পক্ষ থেকে র‍্যাপিড রেসপন্স ইউনিট গঠন করা হয়েছে। সেখানে ৪ জন বিশেষজ্ঞকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তার মধ্যে একজন বিশেষজ্ঞ দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও এর দায়িত্বে রয়েছেন। যদি করোনাভাইরাস সম্পর্কিত কোনো ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায় তাহলে বিশেষজ্ঞরাই এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ঢাকায় নিয়ে যাবে। আর যদি কোনো ব্যক্তি শনাক্ত হয় বা সন্দেহ হয় তাহলে কাহারোল উপজেলায় তাদের স্থানান্তর করা হবে।

এ ছাড়া জেলার সকল জায়গায় সচেতনতামূলক বিভিন্ন লিফলেট বিতরণ ও হট লাইন চালু করা হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কদ্দুস বলেন, ‘করোনাভাইরাস নিয়ে ইতিমধ্যেই আমরা পুরো জেলায় একটি ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছি। করোনাভাইরাস যেহেতু একজনের থেকে আরেকজনের কাছে ছড়ায় এ জন্য আমরা প্রত্যেক উপজেলায় বা জেলায় যদি এ রকম কোনো আক্রান্তের খবর পাই তাহলে তাদের আলাদাভাবে রাখার জন্য কাহারোল উপজেলায় নবনির্মিত একটি ২৫ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল প্রস্তুত রেখেছি।

এ ছাড়া পার্বতীপুর উপজেলার ল্যাম্ব হাসপাতালে ১০ শয্যা বিশিষ্ট একটি আলাদা পরিচর্যা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

সতর্কতার বিষয়ে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম বলেন, ‘আমরা এর মধ্যেই দুই দফা আলোচনা করেছি। জেলা পর্যায়ে এবং উপজেলা পর্যায়ে একটি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় ইউএনও’দের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপজেলাগুলোতে যদি কোনো ফাঁকা ভবন থাকে তাহলে এ রকম কোনো রোগী শনাক্ত হলে বা প্রাথমিকভাবে সন্দেহ হলে তাদেরকে আলাদা ভবনে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আক্রান্ত হলে তাদের খাবার ও আলাদা অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। করোনাভাইরাস নিয়ে যাতে কেউ আতঙ্কিত না হয় সে বিষয়েও আমরা প্রচারণা চালাচ্ছি। মাস্ক ব্যবহারের বিষয়ে তিনি পাতলা কাপড় দিয়ে মাস্ক তৈরি করে ব্যবহার করা ও সবাইকে সচেতনতা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত