রূপগঞ্জে অবাধে চলছে ফিটনেসবিহীন যান

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২০, ১২:১৫ এএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছে ফিটনেস ও কাগজবিহীন যানবাহন। এছাড়া অদক্ষ চালক দিয়ে চলছে যাত্রীবাহী যানবাহনগুলো। অদক্ষ চালকের কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ঘটছে অসংখ্য দুর্ঘটনা। এছাড়া মহাসড়ক দখল করে রাখা হচ্ছে যানবাহন। এতে মহাসড়কে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। ফিটনেসবিহীন গাড়ি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।

উপজেলার গাউছিয়া এলাকা থেকে গ্লোরী, আশিয়ান, গ্রীন বাংলাসহ নামে-বেনামে পাঁচ শতাধিক যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করে। তবে এসব যানবাহনের বেশিরভাগই ফিটনেস ও বৈধ কাগজপত্রবিহীন। গাউছিয়া থেকে কাঁচপুর, বরপা, রূপসী, বিশ্বরোড এলাকায় দুই শতাধিক লেগুনা চলাচল করে। এর মাঝে বেশিরভাগ লেগুনার বৈধ কোনো কাগজপত্র ও চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। লেগুনাচালকদের বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অদক্ষ। এছাড়া এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কে গাউছিয়া থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত শতাধিক লক্কড়ঝক্কড় প্রাইভেট কার চলাচল করে। এসব প্রাইভেট কারের ফিটনেস ও বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। যানবাহন মালিকরা ট্রাফিক, হাইওয়ে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মাসোয়ারা দিয়ে ফিটনেস ও কাগজবিহীন যানবাহন রাস্তায় চালাচ্ছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, অল্পবয়স্ক ছেলেরা লেগুনা ও বাসের চালকের আসনে বসে আছে। তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্র আছে কি না জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে, ‘আমগো এইসব ড্রাইভিং লাইসেন্স আর গাড়ির কাগজ লাগে না। গাড়ির কাগজপত্রের ব্যাপারে মালিক জানে।’ এছাড়া লেগুনা ও যাত্রীবাহী বাসগুলোকে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতেও দেখা যায়।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ হলেও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবাধে চলতে দেখা গেছে বাহনগুলো। প্রশাসনের নাকের ডগায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দেদার ফিটনেস ও কাগজবিহীন যানবাহন চলাচল করছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহনগুলোর বসার সিটগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। কোনো কোনোটির সামনের অংশে মাত্রাতিরিক্ত মরিচা পড়ে ক্ষয় হয়ে গেছে। এসব যানবাহনের বেশিরভাগের হেডলাইট অকেজো। এগুলোর কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা।

সবুজ নামে এক তরুণ বলেন, দুই মাস আগে গাউছিয়া এলাকায় বাসের ধাক্কায় আমার দুটি পা ভেঙে যায়। অদক্ষ চালক রাস্তায় বেপরোয়া গাড়ি চালানোয় আমার এ অবস্থা। একটি দুর্ঘটনা একটি পরিবারের সারা জীবনের কান্না। কথা হয় রূপসী এলাকার বাসিন্দা রাব্বি মিয়া নামে এক যাত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গাউছিয়া মার্কেটে আমার দোকান রয়েছে। গাড়িতে উঠে প্রায় সময় দেখি কিশোর বয়সের ছেলেরা গাড়ি চালাচ্ছে।’

জেলা ট্রাফিক পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার সালেহ উদ্দিন বলেন, ফিটনেস ও কাগজবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধে আমরা কিছুদিন পরপরই অভিযান পরিচালনা করেছি। মহাসড়কে সিএনজি ও ইজিবাইক চলাচল করলে হাইওয়ে রেকার লাগিয়ে মামলা দেওয়া হচ্ছে। মহাসড়ক দখল করে যানবাহন রাখার ব্যাপারে তিনি বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত