অপরিকল্পিত খাল খননে ধসে পড়েছে সড়ক

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২০, ১২:২৬ এএম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নির্মাণের এক বছর পার না হতেই খালে ধসে পড়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পাকা সড়ক। উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের এ ঘটনায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষ। এরই মধ্যে ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটি চর আন্ধার মানিক হতে শুরু হয়ে চর কৃষ্ণপট্টি ও মামুদপুর হয়ে চর বালিয়াকান্দির পশ্চিম অংশে গিয়ে শেষ হয়েছে। এর মধ্যে কৃষ্ণপট্টি ও মামুদপুর গ্রামের অংশ পদ্মা নদীর শাখা খাল পাড় ঘেষে চর বালিয়াকান্দি মৌজা ছুঁয়ে গেছে। খালের পাড় দিয়ে বয়ে যাওয়া সড়কের অন্তত ৩০০ মিটার রাস্তা পাশের বিভিন্ন গাছসহ সম্পূর্ণ খালের মধ্যে ধসে পড়েছে। এ ছাড়া খালের অপর পাশের ফসলি জমিও ধসে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, সড়ক নির্মাণের মাস কয়েক পরই খালের পাড় ধসে যাওয়া শুরু হয়। পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে পুরো সড়কটি খালে ধসে যায়। সড়কটি ব্যবহার করে স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ হাট-বাজারে যাতায়াতসহ শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যাওয়া আসা করত। কিন্তু মাত্র কয়েক দিনে রাস্তাটি ধসে যাওয়ায় সেখান দিয়ে একটি বাইসাইকেল যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। এতে চরম ভোগান্তি আর দুর্ভোগ নিয়ে দিনাতিপাত করছে গ্রামবাসী।

এলজিডি গোয়ালন্দ উপজেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে গোয়ালন্দের ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর আন্ধার মানিক রেললাইন থেকে শুরু হয়ে চর বালিয়াকান্দি পশ্চিম পাশ পর্যন্ত ৬৩৫ মিটার দীর্ঘ পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়। সড়কের পাশ দিয়ে পদ্মা নদীর শাখা খালে প্রবাহিত হয়েছে। রাস্তাটি নির্মাণকাজ চলাকালেই পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই শাখা খাল পুনর্খনন করে। অপরিকল্পিতভাবে রাস্তার পাশ দিয়ে গভীর করে খাল খনন করায় বৃষ্টি ও পানি প্রবাহের চাপে রাস্তার অনেকটা অংশ খালে ধসে পড়ে।

গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকৌশলী বজলুর রহমান খান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড অপরিকল্পিতভাবে খাল খনন করায় সড়কটি ধসে পড়েছে। ফলে ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এরই মধ্যে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবায়েত হায়াত শিপলুসহ তারা ধসে পড়া সড়কটি পরিদর্শন করেছেন। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তাটি সংস্কার করে যান চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব হবে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজবাড়ী কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আরিফ সরকার বলেন, খালের অনেকটা জায়গা দখল করে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। তারপরও বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আমরা খাল পুনর্খনন প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পাইলিং করে মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত