ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দুপক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে শামসুল হক চৌধুরী (৫৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। লাঠির আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ বলছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামের বকশিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামসুল হক চৌধুরী ওই এলাকার মৃত সওদাগর চৌধুরীর ছেলে। এ সময় সংঘর্ষে ৭ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের পরমানন্দপুরের মসজিদ-মাদ্রাসার অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নূর আলী ও জয়নাল আবেদীনের পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তাদের মধ্যে এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষ মামলা করেছে। কিছুদিন আগেও তাদের বিরোধ নিষ্পত্তি করতে সালিস হয়। এতেও বিরোধের মীমাংসা হয়নি। এরই জেরে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে সেখানে রাত থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গতকাল সকালেও দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দুপুরে পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। পুলিশ এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ করলে এলাকাবাসী দিগবিদিক পালাতে থাকে। একসময় নদীর পাড়ের এলাকাবাসী শামসুল হক চৌধুরীকে দৌড়ে নদীর পাড়ে গিয়ে পড়ে যেতে দেখেন। এ সময় ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
সরাইল থানার ওসি শাহাদাত হোসেন টিটু বলেন, কোনো প্রকার লাঠির আঘাতে তিনি মারা যাননি। আমরা ধারণা করছি তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে।
সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদ রানা জানান, দুপক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে শামসু চৌধুরী হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু এলাকার লোকজন শামসুল হক চৌধুরীর ওপর পুলিশ হামলা করেছে এই প্রচারণা চালিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। তাই পুলিশ লাঠিচার্জ করে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
