বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নভেল করোনাভাইরাসকে মহামারী ঘোষাণার পর হঠাৎ করেই ইউরোপ ও আমেরিকা অঞ্চলে বেড়েছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা। ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এই ভাইরাসজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে। গত বৃহস্পতিবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর স্ত্রী সোফি গ্রেগরি ট্রুডো আক্রান্ত হয়েছেন এই ভাইরাসে। ট্রুডোর মধ্যে এখনো কোনো উপসর্গ দেখা না গেলেও তাকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। গতকাল শুক্রবার এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোও। একই দিন ভাইরাসটি ধরা পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার ডাটনের শরীরেও।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, গতকাল করোনাভাইরাস পরীক্ষা করিয়েছেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে এবং রোমানিয়ার প্রধানমন্ত্রী লুডোভিচ ওরবান।
রয়টার্স জানাচ্ছে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সম্প্রতি লন্ডনে গিয়েছিলেন কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী সোফি গ্রেগরি ট্রুডো। সেখান থেকে ফেরার পর তার মধ্যে ফ্লুর মতো উপসর্গ দেখা দেয় বলে এক টুইটে জানিয়েছিলেন ট্রুডো।
এরপর বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পরীক্ষায় সোফির করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ভালো আছেন, তার মধ্যে কোনো উপসর্গ নেই। তারপরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ডাক্তারের পরামর্শে তিনি ১৪ দিন আলাদা থাকবেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ব্রাজিলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে বলছে, ভাইরাসকে সম্প্রতি ‘ফ্যান্টাসি’ বলে মশকরা করেছিলেন জাইর বোলসোনারো। কিন্তু তিনিই এবার আক্রান্ত হলেন করোনাভাইরাসে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক সেরে দেশে ফিরেছিলেন জাইর বোলসোনারো। এরপর থেকে তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন।
এদিকে বিবিসি বলছে, অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার ডাটন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় এ ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে বলে শুক্রবার খোদ জানিয়েছেন ডাটন। তাকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য কুইসল্যান্ডের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ভাইরাসে আক্রান্ত ও মারা যাওয়াদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আছেন রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা মন্ত্রী-এমপিরা। আছেন নামি-দামি অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে জানাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাসটিতে অন্তত অর্ধশত মন্ত্রী, এমপি বা প্রভাবশালী ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন। প্রভাবশালীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ইরানে। দেশটির ৭ শতাংশ আইনপ্রণেতা প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। দেশটিতে সর্বশেষ পর্যটন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবিষয়ক মন্ত্রী আলি আসগর মুনসিন এবং শিল্প, খনিজ ও বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী রেজা রাহমানি আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক রাষ্ট্রদূত হাদি খোসরোশাহী মারা যান। এরপর মারা যান সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলি রামাজানি দস্তাক, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শীর্ষ উপদেষ্টা মোহাম্মদ মীর মোহাম্মদী ও নারী সাংসদ ফাতেমেহ রাহবার।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং কনজারভেটিভ এমপি নাদিন ডোরিয়াস। নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে আছেন তিনি। তার সঙ্গে দেখা করায় লেবার এমপি র্যাচেল মাস্কেলকেও কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।
ফ্রান্সের সংস্কৃতিমন্ত্রী ফ্রঁঙ্ক রিয়েস্তা করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে ফরাসি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কোয়ারেন্টাইনে তিনি ভালো আছেন। তিনি ছাড়াও আরও পাঁচ ফরাসি এমপির করোনা ধরা পড়েছে। তারা সবাই ‘আইসোলেশনে’ আছেন।
চীনের পর ইতালিতেই করোনার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। দেশটির ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা নিকোলা জিঙ্গারেত্তিও গত সপ্তাহ থেকে করোনার চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদিকে গত সপ্তাহে ইতালি সফরের পর ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট ডেভিড সাসোলিও কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।
করোনা সংক্রমিত একজনের সঙ্গে করমর্দন করায় যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর টেড ক্রুজ স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনে আছেন। এছাড়া রিপাবলিকান দলের পাঁচ এমপির করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।
হলিউড তারকা টম হ্যাঙ্কস ও তার স্ত্রী রিটা উইলসন নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এলভিস প্রিসলির জীবনীনির্ভর এক সিনেমার শ্যুটিংয়ের জন্য এই দম্পতি এখন আছেন অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে। আপাতত সেখানেই তাদের আইসোলেশনে থাকতে হবে।
