নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও হবিগঞ্জ জেলার ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামতকাজ এখনো শেষ হয়নি। হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামতের কাজ গত ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে কোনো প্রকল্পেরই কাজ শতভাগ শেষ হয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নীতিমালা অনুযায়ী, গত বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন ও ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় ওই অঞ্চলের কৃষকরা আগাম বন্যায় ফসলহানির আশঙ্কা করছেন।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে ৮ উপজেলায় হাওর ও নদীতে ২৬ দশমিক ৯ কিলোমিটার বাঁধ মেরামতের প্রকল্প হাতে নেয় চলতি অর্থবছর। এর জন্য ব্যয় ধরা হয় ৪ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এসব বাঁধের ওপর কৃষকদের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল নির্ভর করে। জেলায় এবার প্রায় ১ লাখ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে।
হাওরে একসময় ঠিকাদারদের মাধ্যমে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ হতো। ২০১৭ সালের বন্যায় হাওরে ফসলহানি হলে বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পরে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ঠিকাদারি প্রথা বাতিল করে বাঁধ মেরামতে পিআইসির মাধ্যমে স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষকে যুক্ত করে। নতুন নীতিমালায় সরাসরি যুক্ত করা হয় সংশ্লিষ্ট বাঁধের কাছাকাছি উপকারভোগী কৃষকদের। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) উপজেলা কমিটির সভাপতি, পাউবোর সহকারী প্রকৌশলীকে সদস্য সচিব এবং জেলা প্রশাসককে জেলা কমিটির সভাপতি ও পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এতে সদস্য সচিব।
হবিগঞ্জ জেলায় সংশ্লিষ্ট বাঁধ মেরামতের জন্য পাউবো ৪৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি বা পিআইসি গঠন করা হয়। এর মধ্যে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ৯টি পিআইসির জন্য ৫৩ লাখ ৬২ হাজার, নবীগঞ্জ উপজেলার ৭টি পিআইসির জন্য ৭৫ লাখ, বাহুবল উপজেলার ৫টি পিআইসির জন্য ২৩ লাখ ৬৮ হাজার, চুনারুঘাট উপজেলার ১টি পিআইসির জন্য ৫ লাখ ৮৪ হাজার, লাখাই উপজেলার ৭টি পিআইসির জন্য ১ কোটি ৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা, আজমিরিগঞ্জ উপজেলার ২টি পিআইসির জন্য ৩২ লাখ ১০ হাজার, মাধবপুর উপজেলার ১০টি পিআইসির জন্য ৫৭ লাখ ১৯ হাজার, বানিয়াচঙ্গ উপজেলার ৮টি পিআইসির জন্য ৭৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর থেকে এসব প্রকল্পের কাজ শুরু করে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য পিআইসি কমিটিকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখনো পুরোপুরি কাজ শেষ হয়নি।
বানিয়াচঙ্গের কৃষক মোস্তাফা মিয়া তিন বছর আগের মতো এবারও আগাম বন্যা হলে হাওরের অধিকাংশ ফসল হারানোর আশঙ্কা করছেন।
হবিগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত দাবি করেন, সব প্রকল্পের মাটি ভরাটের কাজ শেষ। ড্রেসিং ও ঘাস লাগানোর কাজ বাকি। কিছু দিনের মধ্যে পুরো কাজ শেষ হয়ে যাবে।
