চট্টগ্রামে সিইসি

করোনার কারণে নির্বাচন পেছানোর সম্ভাবনা নেই

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২০, ০৩:১৪ এএম

করোনাভাইরাসের কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন পেছানোর কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে নির্বাচনী কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। সিইসি বলেন, ‘এ পর্যন্ত যে পরিস্থিতি

আছে তাতে করে জাতীয় পর্যায়ে কোনো দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়নি এবং নির্বাচন বন্ধ করার কোনো পরিস্থিতি আসেনি। যদি এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তাহলে সেটা পরে দেখা যাবে।’

তফসিল অনুযায়ী ২৯ মার্চ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) চসিক নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এম রেজাউল করিম চৌধুরী, বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেনসহ মেয়র পদে ৭ জন এবং ৪১টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৬৩ জন ও ১৪টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৫৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘ভোটের দিন যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলে দূর-দূরান্ত থেকে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন না। অনেকে প্রতিবাদস্বরূপ ভোটকেন্দ্রেই আসেন না। সে কারণে আমরা চিন্তা করেছি, ভোটের দিন সীমিত আকারে যানবাহন চালু রাখার। এ ছাড়া কমিশন, সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত ও কল-কারখানাগুলো ভোটের দিন দুপুর ১২টা পর্যন্ত চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

প্রার্থীদের প্রতি এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘এজেন্টদের কেন্দ্রে যেতে না দেওয়া কিংবা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে আমরা দেখি, অধিকাংশ কেন্দ্রে এজেন্টই যায়নি। কেন্দ্রে যদি এজেন্ট না যায়, তাহলে আপনাদের-আমাদের কিছু করার থাকে না। প্রার্থীদের প্রতি অনুরোধ, যোগ্য এজেন্ট কেন্দ্রে পাঠাবেন। এটা সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য আমাদের দরকার। যখন একজন এজেন্ট নির্বাচন কেন্দ্রে যাবেন, তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দেবেন।’

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা নির্দ্বিধায় ভোটকেন্দ্রে আসবেন। যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেবেন। এখানে আপনাদের কোনো বাধা দেওয়া হবে না। ইভিএমের মাধ্যমে একজন ভোটার একবার ভোট দিলে আরেকবার দিতে পারবেন না। ইভিএম মেশিন তাকে গ্রহণ করবে না। তা ছাড়া নির্বাচনে নির্বাহী ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের কোনো স্বার্থ নেই। তারা অবাধ নির্বাচনের পক্ষপাতী।’

এর আগে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদের সভাপতিত্বে সভায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খানসহ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নগরের সব থানার ওসিরা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত