প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে ইতিমধ্যেই ৫ হাজার ৯২৫ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকায় ভাইরাসটি কীভাবে ছড়াচ্ছে তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসটি মূলত আক্রান্ত মানুষের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে। এ ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে জ্বর, কাশি ও শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যার উপসর্গ দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, উপসর্গ যদি এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয় তাহলে ভালো। কিন্তু ম্যাসাচুসেটাসের ৮২ জন আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ভিন্ন কথা বলছে।
ম্যাসাচুসেটসের আক্রান্তদের মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। এমন অবস্থায় বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গহীন মানুষের মাধ্যমেই সংক্রমণের ঘটনা বেশি ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের মতে, ভাইরাসে আক্রান্তের উপসর্গহীন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা কঠিন ব্যাপার। ইউএস সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘উপসর্গ প্রকাশের আগেই সংক্রমণের ঘটনা ঘটতে পারে। নতুন এ করোনাভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে এটা হুমকিস্বরূপ। যদিও ভাইরাসটি ছড়ানোর ক্ষেত্রে একে মূল কারণ বলা যাচ্ছে না।’
এমনকি এতদিন ধরে বলা হচ্ছে, ২০ বছর বয়সের নিচে ব্যক্তিদের করোনা ঝুঁকি অনেক কম। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে এক নবজাতকের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়ার পর, আগের যুক্তি আর টিকছে না। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন সম্প্রতি বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। সাক্ষাৎকারে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসর্গহীন আক্রান্তদের হাত ধরে কত মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে তা সঠিক করে বলা সম্ভব নয়। ভাইরাসটির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়মিত পরিবর্তন হওয়ায় এটা ঠিক স্পষ্ট নয় যে, ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে শতভাগ উপসর্গ প্রকাশ পায় কি না।
সেন্টার অব ইনফেকশাস ডিজিস রিসার্চ অ্যান্ড পলিসির প্রধান মাইকেল অস্টারহলম বলেন, ‘ব্যাপক হারে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে উপসর্গহীন আক্রান্ত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এটা নিশ্চিত যে তাদের কারণেই ভাইরাসটি এখন মহামারী আকার নিয়েছে। ফলে এ ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।’
ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব মেডিসিনের অধ্যাপক ডাক্তার উইলিয়াম শেফনারের মতে, বিশ্বব্যাপী ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ উপসর্গহীন আক্রান্তরা।
