পঞ্চগড়ে মাদ্রাসা সুপারের ‘নিয়োগ বাণিজ্য’

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২০, ১২:২৯ এএম

পঞ্চগড় সদরে এক মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে ঘুষ আদায় ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় দারুচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোহাম্মদ আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর কয়েকবার লিখিত অভিযোগও করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হলেও সেটির জবাব দেননি অভিযুক্ত আবুল হাশেম।

গত ৫ মার্চ আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন মনসুর রহমান নামে এক ভুক্তভোগী। ওই অভিযোগে বলা হয়, মনসুরের স্ত্রীকে মাদ্রাসার আয়া পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গত ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ঘুষ নেন মাদ্রাসার সুপার আবুল হাশেম। এরপর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে একই পদে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ওই সুপার।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসা সুপার আবুল হাশেম ভুয়া নিয়োগ দিয়ে পঞ্চগড় পৌর এলাকার ঘাটিয়ারপাড়া এলাকার ছিদ্দিক আলীর কাছ থেকে আড়াই লাখ, হাড়িভাসা ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া এলাকার আয়েশা ছিদ্দিকার কাছ থেকে দেড় লাখ ও পাইকানীপাড়া এলাকার ফারুকের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

এর আগে গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর মো. এমদাদুল হক নামে আরেক ভুক্তভোগী জেলা প্রশাসক বরাবর আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। ওই অভিযোগে বলা হয়েছিল, ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাসায় ‘প্রদর্শক’ পদে চাকরির আবেদন করেন তিনি। ওই পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য মাদ্রাসা সুপারের চাহিদানুযায়ী ৫ লাখ টাকা ঘুষও দেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী ২০১৫ সালের ৩১ আগস্ট নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণও হন এবং একই বছর ১৬ সেপ্টেম্বর নিয়োগপত্রও দেওয়া হয় তাকে। শর্ত অনুযায়ী এক সপ্তাহের মধ্যে মাদ্রাসায় যোগদান করে ওই পদে সব দায়িত্ব পালন করলেও এখন পর্যন্ত বেতনভাতার হদিস মেলেনি। অফিস হাজিরা খাতায় কখনো উপস্থিতি স্বাক্ষরও করতে দেওয়া হয়নি তাকে।

সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, গোপনে তাকে ভুয়া নিয়োগ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন মাদ্রাসা সুপার মোহাম্মদ আবুল হাশেম। শুধু তাই নয়, মাদ্রাসায় ভোকেশনাল শাখার জন্য মিথ্যা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়োগপত্র দিয়ে তার মতো আরও তিনজনের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন সুপার।

জানা যায়, ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর ৩০ ডিসেম্বর পাঁচ দিনের মধ্যে আবুল হাশেমকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো জবাবপত্র দাখিল করেননি তিনি। অভিযুক্ত আবুল হাশেমের মোবাইলে ফোন করে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসবের কিছুই জানেন না বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে পঞ্চগড় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন আকতার বলেন, ‘ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে মাদ্রাসা সুপারের বক্তব্যেও গরমিল পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত