বিচ্ছিন্নবাসের পথে ইউরোপ

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২০, ১০:৫৪ পিএম

ইউরোপের সেনজেনভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভ্রমণ বন্ধের পরিকল্পনা নিচ্ছে ইউরোপিয়ান কমিশন। ইউরোপের দেশগুলোতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ইউরোপিয়ান কমিশন এমন পরিকল্পনা নিচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন দার লিয়েন গতকাল ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। নেতাদের সঙ্গে কথা বলার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যত কম ভ্রমণ, তত ভাইরাসের সংক্রমণ কম।’

গতকাল মঙ্গলবার থেকে ফ্রান্স সরকার তার নাগরিকদের দেশের বাইরে যাওয়া ও বাইরে থেকে বিদেশি ও নিজ নাগরিকদের আসা বন্ধ করে দিয়েছে। গত সোমবার টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। জাতির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ইউরোপিয়ান দেশগুলো ও অ-ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সব ভ্রমণ বাতিল করে দেওয়া হবে।’

এদিকে উরসুলা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি বাসিন্দা, ইইউ নাগরিকদের পরিবার ও কূটনীতিক, স্বাস্থ্যকর্মী ও পণ্য পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ছাড়া সবার জন্য সীমান্ত অতিক্রম করা নিষিদ্ধ। আগামী ৩০ দিন পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকস্ব সেনজেন চুক্তি অনুযায়ী ইউরোপের জনগণ ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সীমান্ত তল্লাশি ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারে। সেনজেন চুক্তির বাইরের নাগরিকরাও এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। গতকাল ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রধান চার্লস মিশেলের আয়োজনে ইইউ নেতারা ভিডিও কনফারেন্সে সীমান্ত বন্ধ সংক্রান্ত পরিকল্পনার ব্যাপারে সম্মেলন করেন।

গোটা বিশ্ব থেকে ইউরোপের একঘরে হয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ইউরোপকে করোনার থাবা থেকে কতটা রক্ষা করতে পারবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ ইউরোপে ইতিমধ্যেই করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা চীনের পর সর্বাধিক। শুধু ইতালি ও স্পেনেই আক্রান্তের আনুপাতিক হার চীনের চেয়ে বেশি।

ইউরোপের অন্যতম দেশ জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল সব ধর্মীয় অনুষ্ঠান বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি জনগণকে দেশের ভেতরে ও বাইরে ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করতে বলেছেন। জার্মানির ক্লাব, বার, অবকাশযাপন কেন্দ্র, চিড়িয়াখানা ও খেলার মাঠ বন্ধ থাকবে। রেস্টুরেন্টগুলোতে খাবার পরিবেশন করার টেবিল ও কর্মচারীদের মধ্যে দূরত্ব বজার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই দেশটির স্কুল-কলেজ-বিশ^বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জার্মানিতে বর্তমানে করোনাভাইরাসে সাত হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত ও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি করোনায় আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে স্পেন চতুর্থ। দেশটিতে গতকাল ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৪৯১ জনে দাঁড়িয়েছে। আর আক্রান্তের সংখ্যা ৯৯৪২ থেকে বেড়ে ১১ হাজার ১৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে। গত শনিবার থেকে ১৫ দিনের জন্য পুরো স্পেন অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইউরোপের অন্য দেশ বেলজিয়ামে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে।

গত সপ্তাহে বিস্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক সংবাদ সম্মেলনে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রভূমি বলা হয়েছে ইউরোপকে। ভাইরাসটি মোকাবিলায় ইউরোপের নেতাদের অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতেও বলে সংস্থাটি। সংস্থার প্রধান ইউরোপের দেশগুলোকে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার গৃহীত পদক্ষেপ অনুসরণ করতে বলেন। সদ্য ইউরোপ থেকে বের হয়ে যাওয়া রাষ্ট্র যুক্তরাজ্য এখন কারেনাভাইরাস মোকাবিলায় কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নাগরিকদের অপ্রয়োজনে অন্য মানুষের সংশ্রব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন গত সোমবার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত