মুজিববর্ষের কর্মসূচি বর্জন করে মাদ্রাসায় পাঠদান করলেন অধ্যক্ষ!

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২০, ০২:১১ এএম

মুজিববর্ষের কর্মসূচি বর্জন করে কুমিল্লার দাউদকান্দি মদিনাতুল উলুম ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা খোলা রেখে গতকাল মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম শ্রেণিকক্ষে শিক্ষর্থীদের পাঠদান করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ খবর পেয়ে মাদ্রাসাটিতে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল ইসলাম খান ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আলী সুমন। উপস্থিত সাংবাদিকদের তারা বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করে অধ্যক্ষ নজরুল যা করেছেন তা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদ্রাসার এক শিক্ষকের কাছ থেকে ফোন পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন সাংবাদিকরা। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় মাদ্রাসার বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বইসহ বসে থাকতে দেখা যায়। ষষ্ঠ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হলেও তাদের মাদ্রাসা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। অন্যান্য দিনের মতো ক্লাস নেওয়া হয় তাদের। আর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস সম্পর্কেও শিক্ষকরা তাদের কিছু বলেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মুজিববর্ষ নিয়ে আলোচনার জন্য মাদ্রাসা খোলা রেখেছি।’ বই নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে বসে রয়েছে কেনÑ এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার ১৮ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। তাই কাল (আজ) থেকে মাদ্রাসা বন্ধ থাকবে।’

ইউএনও কামরুল ইসলাম খান বলেন, ‘মাদ্রাসায় ক্লাস চলছে এমন খবর পেয়ে এসে সত্যতা পেয়েছি। আমি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তবে দুঃখের বিষয়, শিক্ষার্থীদের কেউ জানে না আজ জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে ছুটির দিন এবং মুজিববর্ষ উদযাপন হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘এক অভিভাবক তার শিশু সন্তানকে শ্রেণিকক্ষে বসিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান তাদের আসতে বলা হয়েছে, তাই বাচ্চাকে নিয়ে এসেছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বই নিয়ে ক্লাস করেছে আর অধ্যক্ষ বলছেন মুজিববর্ষ পালনের জন্য এনেছেন।’ কামরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘অধ্যক্ষের এই মিথ্যাচার ও রাষ্ট্রের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কথা জেলা প্রশাসক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডকে জানিয়েছি। আমার কাছ থেকে লিখিত রিপোর্ট চেয়েছে। আর জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি, স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সুমন বলেন, গত বছরও এ মাদ্রাসার কমিটিতে প্রকৃত মুসলমানকে দেখিনি। অধ্যক্ষ বিএনপি-জায়ামাতের সঙ্গে আঁতাত করে সভাপতি নিয়োগ করায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের দিনে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। তার এ আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত