২১ মার্চ ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচন হবে কি হবে না তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনই সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। তবে আগামী ২৯ মার্চ অনুষ্ঠেয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন পেছাতে কমিশনকে পরামর্শ দিয়েছেন তারা। করোনাভাইরাস নিয়ে দেশের মানুষের ভেতরে যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে সে কারণে চসিক নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে বলেও দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন তারা।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, আগে মানুষ বাঁচাতে হবে। করোনাভাইরাস একটি সংক্রমণব্যাধি। ফলে মানুষের ভিড় যত এড়ানো যায় ততই এ সংক্রমণব্যাধি থেকে দূরে থাকা সম্ভব। নির্বাচন মানেই মিছিল, মিটিং ও গণসংযোগ। এর ফলে এ রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই আমরা মনে করি নির্বাচন পুনঃতফসিল করা উচিত।
ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিমন্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, এমনিতেই ভোটবিমুখ মানুষ, তার ওপর করোনাভাইরাস আতঙ্ক। এর মধ্যে নির্বাচনী পরিবেশ অনুকূলে নয় বলেই আওয়ামী লীগ মনে করে। তিনি বলেন, কর্মীরাও নেই ভোট প্রচার-প্রচারণায়। এ অবস্থায় ভোট পেছানোটাই হবে উত্তম সিদ্ধান্ত। সভাপতিমন্ডলীর এ সদস্য আরও বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় থাকব কিন্তু মানুষের সঙ্গে হাত মেলাব না, বুক মেলাব না এটা হতে পারে না। আবার এটা না করলে নির্বাচনে প্রচারণার দায়িত্বে থাকা নেতাদের দুর্নাম হবে। এসব পর্যালোচনা করলে এর মধ্যে ভোটের অনুকূল পরিবেশ একেবারেই নেই।
ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর আরেক সদস্য আবদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, উপনির্বাচন ২১ মার্চ। করোনাভাইরাস আতঙ্কের ভেতরেও এ আসনের নির্বাচনের প্রচার চালানো হয়েছে। ভোটের প্রচার শেষ হতে বাকি মাত্র এক দিন। নির্বাচন কমিশন চাইলে ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচন শেষ করে ফেলতে পারেন। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস আতঙ্কে ভোটের মাঠে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে ঠিকই। কিন্তু ভোট যে হতেই হবে সরকার বা আওয়ামী লীগ এমন অবস্থানে নেই।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাস্তবতা যাই হোক করোনাভাইরাসের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে দেশবাসীর ভেতরে। আর এটি যেহেতু সংক্রমণব্যাধি ফলে নির্বাচন কমিশন ভোট পেছানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতেই পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কমিশনকে আমরা জানিয়েছি নির্বাচনে ভোটার আসবে না। আবার নির্বাচনী দায়িত্বে যারা থাকবেন দায়িত্ব পালনে তাদের কেউ কেউ অনীহা প্রকাশ করেছেন। আমরা এ বাস্তবতাগুলো কমিশনের সামনে তুলে ধরেছি। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কমিশনের। তবে আমাদের পরামর্শ হলো নির্বাচন পেছানোর। তিনি বলেন, আগে মানুষ বাঁচাতে হবে, তারপর নির্বাচন।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণব্যাধি। আর এ ভাইরাস নিয়ে বিভিন্ন দেশের মতো আমাদের দেশেও এক ধরনের আতঙ্ক রয়েছে মানুষের ভেতরে। তিনি বলেন, এর থেকে মুক্ত থাকার উত্তম উপায় হলো জনসমাগম থেকে দূরে থাকা। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি ভোটের অনুকূল পরিবেশ এখন নেই।
